সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুরে দীর্ঘ সময় মর্গে লাশ ফেলে রাখার অভিযোগে হামলা এবং ভাংচুর, আটক-৩ | দুর্দান্ত খেলেও ভারতকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশ | বুয়েটে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার থেকে মুছে ফেলা হলো ছাত্রলীগের নাম | ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ | ‘বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত’- কাদের | বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা | সাভার থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের এক সদস্য আটক | পাবনায় ছেলের পাথরের আঘাতে বাবার মৃত্যু | বশেমুরবিপ্রবি’র প্রভোষ্ট ও বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের পদত্যাগ | অবৈধ স্থাপনা সরাতে সাবেক সাংসদ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে নোটিশ |
  • আজ ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে ‘বাংলা’ করা ইসু্যতে মমতার বিপক্ষে বিরোধীরা

১১:৫৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

mom_আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম বদল নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে ঐকমত্য হয়নি। পরিবর্তিত না নাম ‘বাংলা’ নাকি ‘বঙ্গ’ হবে এনিয়ে বিপত্তি। আর যে কোনো পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিজেপি।

এ মাসের শুরুর দিকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাস করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ কিংবা ‘বঙ্গ’ করতে চায় তার সরকার।

বৃহস্পতিবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, সরকার চায় রাজ্যের নাম হোক ‘বাংলা’। ইংরেজিতে বলা হবে- ‘বেঙ্গল’ আর হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’।

কিন্তু সরকারের এই প্রস্তাবে আপত্তি জানায় বাম-কংগ্রেস। প্রস্তাবটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি।

রাজ্যের নাম পরিবর্তনে উদ্যোগী হয়েই ২৬ অগস্ট থেকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে সরকার। বিষয়টিতে বিধানসভায় আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা ২৯ অগস্ট।

রাজ্যে শাসক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেটি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। রাজ্যপালের স্বাক্ষরের পরে বিধিসম্মত স্বীকৃতির জন্য কাগজপত্র পাঠানো হবে দিল্লিতে।

এজন্য সরকার চেয়েছিল আগে স্পিকারের মাধ্যমে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে এ ব্যাপারে ঐকমত্য গড়ে তুলতে। কিন্তু সেটা কার্যত ভেস্তে গেল।

বিভিন্ন স্তরে আলোচনা করে মমতা নিজেই নতুন নাম পছন্দ করেছিলেন।

বিশিষ্ট জনেদের অধিকাংশের মত ছিল, নাম বদলানো হলে ‘বঙ্গ’ রাখাই ভালো। এতে এক দিকে যেমন প্রতিবেশী বাংলাদেশের থেকে রাজ্যের নামটিকে পৃথক রাখা সহজ হবে, তেমনই ‘বঙ্গ’ নামটির প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পটভূমিকেও মান্যতা দেয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে তারা ঐতরেয় উপনিষদে ‘বঙ্গ’ শব্দের উল্লেখ থাকার কথাও বলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ’র কথা।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, রাজ্যের নাম হিসেবে ‘বাংলা’ শব্দটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারবে। ‘বঙ্গ বলতে আমজনতা যতটা স্বচ্ছন্দ হবে, তার চেয়ে ‘বাংলা’ বলতে তাদের সুবিধা হবে বেশি।

তার কথায়, ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলা মা ইত্যাদি বলার সময় আবেগ বা অনুভূতির যে সহজ প্রকাশ হয়, অন্য কোনো শব্দে তার কোনো বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না। তাই রাজ্যের নতুন নাম ‘বাংলা’ রাখাই ভাল।’

অতীতে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন বামেরাই। জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার ব্যাপারে প্রস্তাব পাশ করেছিল বিধানসভা।

এ দিন সর্বদলীয় বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তখন কেন বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল? তাছাড়া বর্ণানুক্রমে রাজ্যের নাম এগিয়ে আনার জন্য প্রথম তৃণমূল জমানায় যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তারই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হল না কেন?’

অন্য দিকে কংগ্রেসের প্রস্তাব, রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে সবিস্তার আলোচনার স্বার্থে একটি কমিশন গঠন করা হোক।

বিজেপি অবশ্য কোনো টালবাহানার পথে হাঁটেনি। তাদের রাজনৈতিক লাইন পরিষ্কার- ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি বদল করলে দেশভাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন, বিধানসভার ভিতরে শুধু নয়, বাইরেও তারা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করবেন।