অবশেষে ৭ বছর পর দেখা মিললো টনি ডায়েসের

১:৪১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০১৬ বিনোদন, স্পট লাইট

বিনোদন ডেস্ক – অবশেষে দেখা দিলেন এক সময়ের টিভি নাটকের পরিচিত মুখ অভিনেতা টনি ডায়েস। তবে সেটা সরাসরি নয়, স্কাইপির মাধ্যমে। প্রায় ৭ বছর যাবত এক সময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেতা সপরিবারে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। তবে বিদেশে পাড়ি দেয়ার আগে তিনি নারগিস আকতারের পৌষ মাসের পিরিত ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। আর সে ছবিটি নানা ঝামেলা চুকিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন পরিচালক নারগিস আকতার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ, কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম ছাড়া আরো অনেকে। তারা সবাই এই ছবির জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ছবির শিল্পীরা উপস্থিত থাকলেও ছবির নায়ক টনি ডায়েস এবং নায়িকা পপি ছিলেন অনুপস্থিত।

ওই সময় নিজ বাসা থেকে স্কাইপিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন টনি ডায়েস। এবং সংবাদ সম্মেলনে সবার সঙ্গে ‘পৌষ মাসের পিরিত’ ছবির কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

ছবিটি প্রসঙ্গে টনি ডায়েস বলেন, আমেরিকায় পাড়ি জমানোর ঠিক আগে ছবিতে কাজ করি। অনেক মিষ্টি মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে ছবিটির সঙ্গে। ‘যশোরের খাজুরা নামক একটি এলাকায় ছবির কাজ করেছিলাম’। সেটা আবার হাড়কাঁপানো শীতের সময়। শুটিং সেটে হাজির হতাম ভোর ৪টায়। সে কারণে রাত ৩টায় উঠে রেডি হতাম। এভাবে অনেকদিন সেখানে কনকনে শীতের মধ্যে কাজ করি। দৃশ্যগুলো আজও চোখে ভাসছে।

toni dayes

স্কাইপি আলাপে টনি ডায়েস আরো বলেন, নারগিস আপা আমার বড় বোনের মতো। তার নির্মাণে ‘মেঘের কোলে রোদ’ ছবিতে কাজ করেছি। যেটা ছিল আমার অভিনয় ক্যারিয়ার জীবনের অন্যতম সফল একটি কাজ। তিনি চমৎকার একজন মানুষ। নির্মাতা হিসেবেও দারুণ মেধাবী। আমি দেশে না থেকেও ছবিটির প্রচারণায় স্কাইপিতে অংশ নিতে পেরে এতে খুব ভালো লাগছে।

‘আমার পরিবারের সবাই এবং আমার স্ত্রী প্রিয়ার পরিবারের সবাই এখানে থাকে’। তাই এখন আর মনে হয় না আমি বিদেশে আছি। চাকরি, সংসার, পরিবার নিয়ে ভালোই আছি। তবে সবকিছুর পরেও প্রিয় মাতৃভূমিকে মিস করি। হয়তো আগামী জানুয়ারি মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে বেড়াতে আসবো। সবার সঙ্গে কথা হবে।

এ সময় টনি ডায়েস আরো বলেন, খুব মনে পড়ে বাংলাদেশকে। নিজের জন্মস্থান বলে কথা। কিন্তু আমেরিকায় প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হলেও এখন আর কিছু হয় না। তার কারণ হলো আমার কাছে আমেরিকাও অনেকটা ঢাকার মতো মনে হয়।

এদিকে, এই ছবিটির মুক্তিতে আনন্দ ব্যক্ত করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ‘মেঘের কোলে রোদ’ ছবির নির্মাতা নারগিস আকতার।

এ সময় তিনি বলেন, পৌষ মাসের পিরিত` ছবিটিকে ঘিরে আমার অনেক স্বপ্ন। যখন ছবিটি নির্মাণে হাত লাগাই তখন আমি অনেকটা টম বয়ের মতো ছিলাম। অনেক দুষ্টুমি, অনেক যত্ন, অনেক আশা ছিলো এই ছবিকে ঘিরে। নির্মাণ কাজের কয়েক লট পরে ছবিটি আর্থিক সংকটে পড়ে। সে সময় আমি একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ি। নিজের গাঁটের পয়সা ব্যয় করে, অনেকের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ছবিটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আমার এই আনন্দের সীমা নেই।`

বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন নারগির আকতার। `মেঘের কোলে রোদ` ছবির এই নির্মাতা আরো বলেন, `আমি আগে যেসব ছবি নির্মাণ করেছি প্রতিটি ছবিই সমাদৃত হয়েছে। এজন্য নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এই ছবিটির জন্য আমার সর্বোচ্চ মেধা-শ্রম দিয়েছি। সে কারণে ছবিটিকে আমার সন্তানের চোখে দেখছি।`

তিনি আরো বলেন, `মৌলিক গল্পে `পৌষ মাসের পিরিত` ছবিটি নির্মিত হয়েছে। সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখলে আমারসহ ছবির পুরো ইউনিটের শ্রম-স্বার্থক হবে।`