বনলতা তুমি আমার

ক শিল্প-সাহিত্য ডেস্কঃ- বনলতা তুমি  আমার

সোহেল রানা

————–

আজ আমার জন্ম দিন।

অনেকদিন বাদে লিখেতে বসেছি আজ,

ধুলোর স্পর্শ কাতর ডায়রিটা যেন অবশেষে প্রাণ ফিরে পেল।

বিশ্বাস করো তোমরা-

সেদিনের পর থেকে আমার প্রিয় কাঁচের কলমটার ভেতর –

আর কালি ভরা হয়নি।

জানিনা আমি-

পুরো গল্প লিখা হবে কিনা আমার,

শোনাতে পারব কিনা তোমাদের-

আমার জীবন থেকে নেয়া-

খাঁটি হৃদয়ের পূর্ণ ব্যার্থতার গল্প।

কখন যে কলমের কালি ফুরিয়ে যায়,

এই ভেবে ডায়রিটাও যেন ক্লান্ত-

প্রতিটা পৃষ্ঠার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে।

আর দেরি না করায়া বুঝি মঙ্গল।

শোন তবে আমার সেদিনের গল্পটা-

বহু বছর ধরে যে প্রেম পায়ড়া,

আমি পুশে রেখেছিলাম আমার মনের ভেতর,

পায়ড়াটাকে একদিন সম্পূর্ন শক্তি দিয়ে-

উড়িয়ে দিয়েছিলাম আমার বনলতার আকাশে।

পায়ড়ার পায়ে  নুপুর, আর গলে বেঁধে দিয়েছিলাম এক টুকরো কাগজ।

সে টুকরো কাগজে লিখেছিলাম-

হে আমার বনলতা-

আজ যে পায়ড়া আমি তোমার কাছে পাঠালাম,

এতদিন সে ছিল আমার মনের শুন্য খাঁচায়,

অতি যত্নে আর অতি আদরে।

তাকে আমি লালন করেছি- আমার সবটুকু দিয়ে।

তাকে এতদিন আমি বন্দি রেখেছিলাম –

আমার বুকের পাজর দিয়ে বানানো খাঁচায় ।

তার গায়ে এতটুকু আঘাত স্পর্শ করতে দেয়নি আমি ।

শুধু তার সুন্দর জীবনটা তোমাকে উপহার দেব বলে।

আমার পায়ড়াটা গ্রহণ কর বনলতা,

কথা দিলাম-

তোমার অমর্যাদা হবেনা কোনদিন।

ইতি,

তোমায় দেয়া পায়ড়াটির শ্রেষ্ঠ পুরুষ আমি।

তারপর অনেকদিন কেটে গেল-

কোন সারা পেলামনা বনলতার,

রাগে, দুঃখে, অভিমানে বেসামাল হয়ে ছুটে গিয়েছিলাম-

বনলতারর উঠানে।

দূর থেকে আবছা দেখতে পেলাম-

উঠানের মাঝখানে ছোট্ট একটা মাটির ঢিঁবি।

ঢিঁবিটির উপর তীব্র রোদের চাদর জড়িয়ে

অলস হয়ে শুয়ে আছে আমার প্রেম পায়ড়াটা।

কাছে এসে বুঝতে পারি,

এইটা মাটির জমাট বাধা সাধারন কোন ঢিঁবি নয়।

ঢিঁবির পাশে একটা বোর্ডে লিখা আছে একটি নাম-“বনলতা”

তারিখটা দেয়া ছিল বড্ড বেমানান-

কারন সেদিন ও আমার জন্মদিন ছিল

আমার বুকে পাথর বেঁধে তোমাদের জানাতে হচ্ছে-

ঐ মাটির ঢিঁবিটি ছিল আমার বনলতার কবর!

আমি জানিনা বনলতা –

তুমি আমার পায়ড়া আর সেই টুকরো কাগজ পেয়েছ কিনা?

তবে দূর থেকে দেখতে পাও কি তুমি?

আমার প্রেম পায়ড়াটা-

আজও তোমার সমাধিতে শুয়ে কেঁদে কেঁদে বলছে-

বনলতা তুমি  আমার।