সংবাদ শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক কার ওয়াশ ও সার্ভিসিং সেন্টার উদ্বোধন | রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ‘ফইন্নি গ্রুপের’ ৬ সদস্য আটক | এবার চমেক চিকিৎসকদের জন্য ‘নোবেল’ চাইলেন মেয়র নাছির | তানোরে অবৈধ এসটিসি ব্যাংক সিলগালা | ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার | লালমনিরহাটে সহকারী পরিচালকের বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রী অজ্ঞান | সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ | ‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’ | নান্দাইলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা | মাগরিবের আজানের ২০ মিনিটের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ঢোকার নির্দেশ! |
  • আজ ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টানা নদী ভাঙনে ঘর বাড়ী হারাচ্ছে নোয়াখালীর উপকূলীয় হাজার হাজার পরিবার

১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৮, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

মোঃ ইমাম উদ্দীন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় মেঘনার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নে ভাঙনের কবলে পড়ে গত তিন বছরে ভিটামাটি হারিয়েছে অন্তত দুই হাজার পরিবার। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ও সাত-আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।noyakhaliভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরো কয়েক হাজার পরিবার, ফসলি জমি ও সাবেক ২ নং কাটাখালী স্লুইসগেট। ভাঙনরোধে দ্রুত পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ হেমায়েতপুর (আংশিক) ও চর বায়েজিদ মৌজা এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর খন্দকার, আলেমপুর, সৈয়দপুর, চর নোমান সমাজ ও চর মোজাম্মেল মৌজা এলাকায় ভাঙন চোখে পড়ে। সদ্য বসতভিটা হারানো বাসিন্দাদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে ছাতা টানিয়ে বসে আছেন। অনেকে ভাঙনকবলিত এলাকার অদূরে কোনো আশ্রয়ণকেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছেন। আবার কেউ বসতভিটার পাশে নদী চলে আসায় ঘর-দরজা সরিয়ে অন্যত্র নিতে ব্যস্ত।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত তিন বছরে চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ হেমায়েতপুর (আংশিক) ও চর বায়েজিদ মৌজা এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর খন্দকার, আলেমপুর, সৈয়দপুর, চর নোমান ও চর মোজাম্মেল মৌজা ভেঙে যায়। এ অংশে পূর্ব-পশ্চিমে বেড়িবাঁধসহ অন্তত সাড়ে সাত কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার ভেঙে যায়।

এসব অংশে দুই হাজার পরিবারের পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, তিন বছর আগে ভাঙন শুরু হলেও চলতি বছর তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন দুই বেলা জোয়ারে নতুন নতুন স্থান ভাঙছে। তারা জানান, এসব এলাকার বাসিন্দাদের আয়ের একমাত্র উত্স ফসলি জমি। সবজি ও মাছ বিক্রি করেই স্থানীয় বাসিন্দারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত তারা। ভাঙনরোধে পরিকল্পিত পদক্ষেপ না নেয়ায় দিন দিন নিঃস্বদের তালিকা আরো দীর্ঘ হচ্ছে।

চরখন্দোকার সমাজের অলি উদ্দিন (৪০) সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে দক্ষিণ হাতিয়া থেকে সপরিবারে ২০০১ সালে এখানে এসে বাগান কেটে বসতি স্থাপন করেন তিনি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বন্দোবস্তের মাধ্যমে স্থায়ী হন। বন্দোবস্তকৃত এক দাগ জমিতে (দেড় একর) বছরজুড়ে সবজি ও মাছ চাষ করে পরিবার-পরিজনের জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। এক সপ্তাহ আগে তার বসতভিটা ও ফসলি জমিটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদী থেকে আধ কিলোমিটার উত্তরে খাসজমিতে তাঁবু দিয়ে অস্থায়ী বসত গড়েছেন তিনি। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এক মাসের মধ্যে সেটিও বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তার।

কথা হয় স্থানীয় ভূমিহীন নেতা জসিম উদ্দিন ও ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র স্থানীয় প্রতিনিধি সুরেশ কর্মকারের সঙ্গে। তারা জানান, ভাঙন ঠেকাতে নানা সময় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনো সুফল আসেনি।

ভূমিহীন নেতা জসিম উদ্দিন জানান, অসংখ্যবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তিনিও। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো শুকনা মৌসুমে যদি পরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং করার ব্যবস্থা করে, তাহলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্লকবাঁধ দিয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।’

দুই ইউনিয়নের এ দুরবস্থার কথা স্বীকার করেন নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান। তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘দফায় দফায় বিদেশী ফান্ডদাতা, সিডিএসপি ও বোর্ডের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল নিয়মিত পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি। বোর্ডের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।