সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘুষ না দেয়ায় মহেশখালিতে ৬ মাস পেনশন ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ

১:৪০ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৮, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

জামাল জাহেদ, কক্সবাজার থেকে: মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা হিসাব শাখায় ঘুষ না দেওয়ায় মাতারবাড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পেনশনের ফাইল ৬ মাস আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

khus

গত ২৪ তারিখ বুধবার এ বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করতে জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে ডিপিও কতৃক ও বলা হয় আগে উপজেলা থেকে কাজ সেরে আসেন। রাজঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত পিআরএল ভোগরত প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ এ অভিযোগ করেন সরাসরি প্রতিবেদকের কাছে।

তিনি আক্ষেপ করে জানান, কে যে শিক্ষকতার মতো পেশায় নিজেকে জড়িয়েছেন এর চেয়ে বাজারের কুলি মজুর অনেক ভালো ছিলো। নিজের পরিশ্রমের পেনশনের টাকা নিতে যদি ঘুষ নিয়েও ফাইল আটকে রাখে, এ দুঃখ রাখবে কোথায় তিনি। কাকে বোঝাবে এ কষ্ট। বর্তমানে মহেশখালি কক্সবাজার ঘুরে ঘুরে পাগল প্রায় তারপরেও অসাধু ঘুষখোর কর্মকর্তার মন গলেনা বলে দাবি করেন শিক্ষক।

প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু ছৈয়দ দাবি করেন, ১৯৮৬ইং সালের ১৫ই নভেম্বর টানা ৩০ বছর চাকুরী করে শিক্ষক আবু ছৈয়দ অবসরে যান। তিনি ২০১৫ইং সালের ২রা জানুয়ারি পেনশন পাওয়ার জন্য আবেদন করে অবসরে ভোগরত হন। মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সমস্ত কাগজপত্র ইস্যু করে ফাইল পেনশনের টাকা উত্তোলনের জন্য তদবির শুরু করলে উপজেলা আশিষ চিরানের কথা বলে অফিস সহকারি রাখাল বাবু ১৫ হাজার টাকা ঘুষ হিসাবে নেন এবং আরও ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে ফাইল হিসাব শাখায় পাটিয়ে দেন। মহেশখালি উপজেলা হিসাব সংরক্ষণে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সুব্রত মুৎসুদ্দীর অনুপস্থিতিতে জুনিয়ন অডিটর নানা বাহনা শুরু করে দেয়। অবসরে যাবার পুর্বের মাসে যে স্কেলে বেতন উত্তোলন করেছিলো সে স্কেলে বেতন পাবেনা বলে। পরে নানা গড়িমসি শুরু ৮ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে শিক্ষরের পেনশন ফাইল আটকে রাখে।

পরে ঘুষ আদায় করেও বিগত ১৮/০৭/২০১৬ইং তারিখে উপজেলা হিসাব শাখার দায়িত্বে থাকা সুব্রত মুৎসুদ্দীর স্বাক্ষরিত চিঠি উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবরে চিঠি ইস্যু করে। উল্ল্যেখিত বেতন স্কেলে পেনশন পাবে না বলে ইএলপিসি পুনরায় নির্ধারন করে দেওয়ার। এদিকে উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ২৭/০৭/১৬ইং তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশিন চিরান স্পষ্ট চিঠিতে নির্ধারন করে বলেন, হিসাব শাখা যেটার আলোকে গড়িমসি শুরু করছে সে আদেশ উক্ত শিক্ষকের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং পুর্বের স্কেলে পেনশন পাবার যুক্তিযুক্ত বলে পুনঃরায় বিবেচনাপুর্বক ইএলপিসি করার সুপারিশ করেন। কিন্তু অদ্যবধি এই দু অফিসের গড়িমসিতে আটকিয়ে রেখেছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সারা জীবনের পেনশন পাবার সড়কটি।

বারবার বিতর্কিত আর সমালোচিত মহেশখালীর শিক্ষা ও হিসাব অফিসের এমন তালবাহনায় ভোগান্তি আর হয়রানির শিকার হচ্ছে শিক্ষিত সমাজের বিবেক বলে বিবেচিত শিক্ষক শিক্ষিকা। তারপরেও দীর্ঘদিন এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নানা প্রশ্নের জম্ম দিচ্ছে। উৎকোচ ছাড়া ফাইল নড়ে না হিসাবরক্ষণ অফিসে, শিক্ষা অফিসে চলছে ঘুষের মহোৎসব। টাকা না দিলে এখানে ফাইল চলে না। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো আটকে রেখে অডিটরদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে দিন দিন। মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ উক্ত বিষয়ে কোন আলোকপাত হয়না বলে বিস্মিত জনগন। ফলে অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে জিম্মি  হয়ে পড়েছে শিক্ষিত মানুষ গড়ার কারিগর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন, ভাতা ছাড় করা, শিক্ষক কর্মচারীদের পেনশন, বকেয়া বেতন, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, নতুন স্কেলে বেতন কাঠামো নির্ধারণ, ইউআরসির প্রশিক্ষণ ভাতা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের টিআর, কাবিখা, খাবিটা, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভাতাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বিল, উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভাতা, কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভাতাসহ বিশেষ বিশেষ ফাইল আটকে রেখে লোকবল সংকট ও আইনকানুনের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুর্নীতিবাজ ওই সব কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এসব নিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুব্রত মুৎসুদ্দীর সঙ্গে দেনদরবার করেও কোনো লাভ হয় না। অডিটরদের সঙ্গে উৎকোচের চুক্তি ছাড়া কোনো দপ্তর এসব ফাইল অনুমোদন করাতে পারছে না। সরকারি অর্থ ছাড় করা সংক্রান্ত কোনো বিষয় অনুমোদনের জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলেই অডিটররা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কথা বলে দর কষাকষি করেন। ঘুষের টাকার ফয়সালা হলেই ফাইল অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে অডিট মধু সরকার মোবাইল ফোনে বলেন, ফাইল আটকে রেখে উৎকোচ গ্রহণ করবো কেন, এটা শিক্ষা অফিসের কাজ আমরা কেন করবো বলে ফোন কেটে দেয়। অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারি রাখাল বাবুকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হিসাব শাখার দুর্নীতিপরায়ণ মনোভাবের কারনে ফাইল আটকিয়ে রয়েছে। ইংগিত করেন ঘুষের রাজ্যে যাবার।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুব্রত মুৎসুদ্দী সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিধি বিধান মেনেই ফাইল অনুমোদনের কাজ করা হয়। কারও কাছ থেকে ঘুষ নেয়া হয় না। এবং পেনশনের ফাইলটি তার কাছে গেলে দেখবেন বলে জানান তিনি।