ঘরে আত্মহত্যা করলো ছেলে, শোক না সইতে পেরে গাছে ঝুললো মা, এলাকায় শোকের ছায়া

৮:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর, স্পট লাইট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি – দুষ্টু ছেলেটি ঠিক মতো লেখাপড়া করতো না। স্কুলেও যেতো না। এ কারণে গৃহ শিক্ষকের হাতে মার খেতো মাঝে মাঝে। এমনই এক ঘটনায় তার মাও তাকে মারধর করেন রোববার বিকালে।

সেই অভিমানে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সুমন মণ্ডল (১৩) রাত ৮টার দিকে ঘরের মধ্যে ফাঁস আত্মহত্যা করেছে। আর সেই শোক সইতে না পেরে সুমনের মা চন্দনা মণ্ডল ( ৫৫) বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে মা ও ছেলের লাশ নামানো হয়। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কাদাকাটি ইউপি সদস্য সঞ্জয় কুমার জানান, পড়ালেখা না করায় সুমনকে মারধর করেছিলেন তার মা চন্দনা। এর কিছুক্ষন পর সে বাড়ির কাছে একটি বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখান থেকে ফিরে এসে সবার অজান্তে ঘরের আড়ার সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমন।

তিনি জানান, কিছু সময় পর সুমনের মা চন্দনা রানী ঘরে ঢুকতে গিয়ে অন্ধকার দেখেন। লাইট জ্বালিয়েই দেখতে পান নিজের ছেলের ঝুলন্ত লাশ।

সঞ্জয় কুমার বলেন, মায়ের ডাকাডাকিতে পাড়ার সবাই ছুটে আসে। স্থানীয় চিকিৎসক বিনয় কুমার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

cheler-attohotta

‘হায়রে কেন মারলাম আমার সোনাটারে’ বিলাপ করতে করতে চন্দনা সকলের চোখের আড়ালে চলে যায়। এর পর চন্দনা রানীকে বাড়ির পাশের একটি গাছে ঝুলতে দেখেন স্বজনরা।

মা ও ছেলের লাশ দেখে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে সুমনের বাবা মনোরঞ্জন মন্ডল কর্মস্থল মাছের ঘের থেকে ফিরে এসে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘তিন ছেলেমেয়ের দুইজনের বিয়ে হয়ে গেছে। এক ছেলে আর স্ত্রী ছিল,তারাও চলে গেলো। আমি এখন কি করবো।‘

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান বলেন, আত্মহত্যার বিপক্ষে কোনো প্রমান এখনও মেলেনি। এমনকি দুটি মৃত্যু নিয়ে কারও কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানার এসআই মধুসূদন রায়কে কাদাকাটি পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যু সম্পর্কে কোনো অভিযোগ পেলেই মামলা হবে। না পেলে স্বাভাবিক নিয়মে তাদের শেষকৃত্য হবে বলে তিনি জানান।