অটিস্টিক শিশুদের কাহিনী নিয়ে নির্মিত ‘পুত্র’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী !

বিনোদন প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের স্টার সিনেপ্লেক্সে গতকাল মঙ্গলবার হয়ে গেল পুত্র ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী। বিশেষ শিশুদের পরিচর্যা ও সমাজের মূলধারার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার আহ্বান নিয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য এই ছবি। অটিজমের সঠিক ধারণা, বিশেষ শিশুদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ছবিটি তৈরি হয়েছে।

cinema-putro

পুত্র ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। প্রদর্শনীর আগে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো দিক থেকে অপারগ। তাই বিশেষ শিশুদের অবহেলা না করে তাদের গুণগুলো খুঁজে বের করে পরিচর্যা করা উচিত। পুত্র ছবিতে সেটাই দেখানো হয়েছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ। বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লিয়াকত আলী খান এবং পুত্র ছবির কাহিনিকার এস এম হারুন–অর–রশীদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বাংলাদেশ সরকারকে এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বিনোদনের সঙ্গে এখানে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপার তুলে ধরা হয়েছে। এটা জীবনের অংশ। যেটা জোরপূর্বক মনে হবে না। গল্পের সঙ্গে এমনভাবে সব মিশে গেছে যে, দর্শকরা গল্পের মধ্যে ঢুকতে পারবে অনায়াসে। তারপর তারা অনুধাবন করবে, এই সমস্যাটা যে পরিবারে হয়, তাদের পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়। অশিক্ষিত পরিবারে কী রকম হয়, আবার শিক্ষিত পরিবারে কেমন হয়। একেক পরিবারে কিন্তু এ সমস্যা একেক প্রভাব ফেলে। এখানে একটা শ্রেণীকেই শুধু দেখানো হয়নি, বিভিন্ন শ্রেণীতে সমস্যাটা কী রকম থাকে, সবই মোটামুটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সুন্দরভাবে একটা গল্পের আকারে, আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে। একেবারেই একঘেঁয়ে কোনো ব্যাপার নেই।

একটা সময় জানি না আপনাদের চোখে পড়েছে কি-না, রাস্তায় প্রচুর পাগল দেখেছি আমরা। তবে ওরা কিন্তু পাগল না। ওদের হয়তো কোনো একটা সমস্যা ছিলো, তারা হয়তো গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র। বিভিন্নভাবে তাদেরকে আলাদা করে দেওয়া হয় সমাজ থেকে। অথচ তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসা করিয়ে আমরা যদি মমতা দিয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিতাম, তাহলে কিন্তু তারা পথে পথে এমন মানবেতর জীবনযাপন করতো না। এ ব্যাপারগুলো ‘পুত্র’ ছবিতে আছে।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ছবিটি প্রযোজনা করেছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। পরিচালনা করেছেন সাইফুল ইসলাম মাননু। এতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস আহমেদ, জয়া আহসান, শেওতি, আজিজুল হাকিম, শর্মীমালা প্রমুখ।