নাগালের বাইরে 'ডাইল-বাবা'! 'বিপাকে পড়ে' মাদকসেবীরা এ দফায় নাম লিখাচ্ছে 'টিটি খোর' এর তালিকায় !

সময়ের কণ্ঠস্বর,ঢাকা

জেলা পুলিশের  নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের পর 'দৌরাত্ম অনেকটাই কমেছে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের । মাদকের বাজারে চলছে থমথমে পরিস্থিতি । চিত্র  পালটে গেছে চিরাচরিত মাদক সাম্রাজ্যের। আগের মত 'আমদানী না থাকায় গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে  আকাশছোঁয়া দামে বিকোচ্ছে 'ডাইল আর বাবা' ! (মাদকসেবীদের কাছে ফেন্সিডিল, 'ডাইল' আর ইয়াবা, 'বাবা' নামেই পরিচিত )

এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও এমন 'অনাকাংখিত' ও 'ব্যতিক্রমি' প্রভাব পড়েছে বেশিরভাগ মাদকসেবীদের মধ্যে!   পুরোনো নেশাদ্রব্যের এহেন মুল্য উর্ধগতির সাথে 'তাল মেলাতে' না পেরে এবার উত্তরের জেলা শহর ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক  মাদকসেবীরাই ঝুকে পড়ছে সহজলভ্য টিটি ইনজেকশানের কবলে।  স্থানীয়ভাবে এই মাদকসেবীরা পরিচিত 'টিটি খোর' নামে । তালিকায় প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন 'টিটি খোরের' নাম । ভয়াবহ সামাজিক এই ব্যাধির সংক্রমন ছড়াচ্ছে দ্রুতই।

উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা, কড়া নজড়দাড়িতে প্রশাসন।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসেবীদের মধ্যে বাড়ছে টিটি ইনজেকশনের প্রবণতা! টাস্কফোর্স অভিযানে আটক-২

কামরুল হাসান, সময়ের কণ্ঠস্বর, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ,

উত্তরের জেলা শহর ঠাকুরগাঁও। সীমান্তবর্তী অঞ্চল হিসেবে ভারতীয় বিভিন্ন নেশাদ্রব্য ও ইয়াবার আধিক্য এতোকাল থাকলেও বর্তমানে ঠাকুরগাঁয়ের পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজড়দাড়িতে অনেকটা সহনশীল পর্যায়ে এসেছে সেটা । তবে, আশংকার কথা হলো ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও মিয়ানমারের ইয়াবার পর মাদকসেবীদের পছন্দের তালিকায় যোগ হয়েছে ভয়াবহ  টিটি ইনজেকশান! স্থানীয়রা এই মাদকসেবীদের ডাকে 'টিটি খোর' নামে ।

ঠাকুরগাঁওয়ে দিনকে দিন বাড়ছে টিটি খোরের সংখ্যা। অন্যান্য মাদকের সংকট হলেই মাদকসেবীরা ঝুকে পড়ছে অপেক্ষাকৃত দামে কম ও  'সহজলভ্য' ভয়ংকর এই টিটি ইনজেকশানের দিকে। টিটি ইনজেকশানের ভয়াবহতা ও পার্শপ্রতিক্রিয়া জেনেও অনেক শিক্ষিত বেকার তরুন- যুবক নিজের নাম লিখিয়ে ফেলছেন 'টিটি খোরের' তালিকায়।

মাদকের সাম্রাজ্যেে ভয়াবহ নতুন অতিথী'র করালগ্রাস থেকে এলাকার যুবসমাজকে রক্ষা করতে বসে নেই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন। বরাবরের মতই মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে  ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের স্পষ্ট নির্দেশনায় 'জিরো টলারেন্স' ভুমিকায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার পাচটি থানার পুলিশ সদস্যরা। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসনের আইনশৃংখলা মিটিং বিভিন্ন মাদকের প্রভাবের সাথে টিটি ইনজেকশান নামক ভয়াবহ এই মাদকের বিষয়টি উঠে আসার পর নড়ে চড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

thakurgaon-drugs

এরই ফলশ্রুতিতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার  পূর্ব হাজিপাড়ায় টাস্কফোর্স অভিযানের মাধ্যমে  ৯০ পিস মাদকদ্রব্য ইনজেকশন ( (বুফিনরফিন কুপি জেসিক্স) সহ ২ জনকে আটক  করেছে পুলিশ। আজ রবিবার বিকালে টাস্কফোর্স অভিযানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের এন ডি সি মাহবুবুল হক এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর এন ডি সি মাহবুবুল হক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ইন্সপেক্টর, মাদকদ্রব্য ও অফিসার ইনচার্জ ঠাকুরগাঁও থানাকে আদেশ দেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে খাদ্য পরির্দশক, আক্তার ফারুক, পেশকার, সাইফুল ইসলাম, সদর থানার, এস.আই খাইরুল, এ.এস.আই, অনিল সহ সঙ্গীয় র্ফোস।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ' মাদকদ্রব্য ইনজেকশন বিক্রয় করার সময় পূর্ব হাজিপাড়া এলাকার খালেকের পুত্র শামসুল হুদা জুয়েল (৪৫) ও ক্রয় করার সময় উত্তর গোয়ালপাড়া এলাকার মৃত মমিনুল হক এর পুত্র তুষার আলম (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত ৯০ পিস মাদকদ্রব্য ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য ৯ হাজার টাকা বলেও জানান তিনি।

''আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক এর নিয়মিত মামলা করা হবে। আমি নিজে বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো'' বলেও জানান, ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।

thakurgaon-drugs

এ বিষয়ে জানতে ঠাকুরগাঁয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন,' মাদকের প্রাদুর্ভাব থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের যুব সমাজকে বাঁচাতে সব রকম অভিযান ও পরিকল্পনা মাথায় রেখেই কাজ করছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন।

'নানা হতাশা এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র 'কৌতুহল' থেকেও তরুন ও যুবকরাই মুলত ভয়াবহ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে' উল্লেখ করে পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন, 'এই সামাজিক ব্যধি সমুলে উৎপাটনে শুধু পুলিশি ভুমিকা যথেস্ট নয়, চোখ কান খুলে সচেতন হতে হবে প্রতিটি অভিভাবককেও'।

 

Leave a Reply