লালমনিরহাট রেল পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

৯:০৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর লালমনিরহাটে কর্মরত এক এসআই মইনুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

1462303712জানা গেছে, এসআই মইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে লালমনিরহাটে চাকুরী করেন। সেই সুবাধে তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে রেলওয়ে ইঞ্জিনের তেলচুরি, রেলওয়ের নিরাপত্তার সিপাহীদের টিএ/ডিএ এর টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাত করেন। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী লালমনিরহাট জোনের ২৭১ জন সদস্যের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নিরাপত্তা প্রহরী/সিপাহীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ঢাকা বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর এস আই মইনুল হকের বিরুদ্ধে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আবার রেলওয়ের ইঞ্জিনের তেলচুরি শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে রেল বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যার ফলে বেশ কিছু দিন যাবত লালমনিরহাটে রেলওয়ে ইঞ্জিনের তেলচুরি বন্ধ ছিলো। স্থান পরিবর্তন করে এখন আবারো তেলচুরি হচ্ছে। তিস্তা রেলওয়ে ষ্টেশনে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে ইঞ্জিন থেকে তেলচুরি করার খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট জোনে বর্তমানে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আছেন, সিআই-৩জন, ইন্সস্পেক্টর-২জন, এসআই-৭জন, এএসআই-৪জন, হাবিলদার-৩৮জন, নায়েক-১৫জন ও ২৭১ জন সিপাহী। এত অপ্রতুল্য জনবল কর্মরত থাকার পরেও কিভাবে রেলওয়ে ইঞ্জিনের তেল চুরির হয়? ফলে বিষয়টি জেলায় আলোচিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে।
আর এ তেল চুরির ঘটনার মদতদাতা হিসাবে প্রচুর অভিযোগ উঠেছে সেই এসআই মইনুল হকের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, প্রতিদিন এস আই মইনুল তেল চুরি বাবদ ২৫/৩০ হাজার টাকা পান। এ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন উপরুক্ত কর্তা ব্যক্তিদের সাথে।

লালমনিরহাট টু বুড়িমারী, পাবর্তীপুর, সান্তাহার লাইনের মালবাহী গাড়ি চলাচল দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ। অথচ সে লাইনে গাড়ি চলাচল দেখিয়ে টিএ বিল উত্তোলন করেন তিনি। এছাড়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ডিউটি না করেও সে টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন করেন। তেমনি অন্যান্য সিপাহীদের স্বাক্ষর নিয়ে ওই সমস্ত বিলের ৫০% কর্তন করে কর্তা ব্যক্তিদের সন্তষ্ট করেন। এভাবে জোড়পুর্বক অবৈধভাবে বিল কর্তন করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায়না। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী লালমনিরহাট জোনের ২৭১ জন সদস্যের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তারা মইনুলের বিরুদ্ধ্র ঘরোয়া লবিং-গ্রুপিং করছে। ফলে যে কোন মহুর্তে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। নিজেকে নির্দোষ সাজাতে গত ৩০ অক্টোবর দৈনিক প্রথম খবর পত্রিকায় একটি প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে এসআই মইনুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি কিছুই জানিনা।

লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিআরএম এর সাথে যোগাযোগ করার করার চেষ্টা করলেও অফিসে তার দেখা পাওয়া যায়নি।

সহকারী কমান্ড্যান্ট মোঃ হাসান ইমামের বলেন- আমার কাছে এসআই মইনুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুক্তভোগী নিরাপত্তা প্রহরী/সিপাহীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ঢাকা বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। যাহার অনুলিপি জিএম/পঃ/রাজশাহী, চীফ কমান্ড্যান্ট নিরাপত্তা বাহিনী/পঃ/রাজশাহী, অডিট অফিসার/পঃ/রাজশাহী ও ডিআরএম/লালমনিরহাটে প্রেরণ করা হয়েছে।

Loading...