সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত: নিরাপত্তা জোরদারে কাটাঁতারের বেড়াসহ ৯ দফা সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে

৭:৪১ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৬ আলোচিত, চট্টগ্রাম, দেশের খবর

ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার- বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৪৮ কিলোমিটার ভূখন্ডে কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণ সহ ৯ দফা সুপারিশ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। শাহপরীর দ্বীপ থেকে উখিয়ার কুতুপালং পর্যন্ত পৃথক নিরাপত্তা বলয় তৈরির লক্ষ্যে বিজিবি’র সীমান্ত চৌকি বৃদ্ধির জন্য ওই সুপারিশ খানা প্রতিবেদন আকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে সূত্র জানিয়েছেন।

hhcchসম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ক্ষনে ক্ষনে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ১১ অক্টোবর তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও সেদেশের সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশ নিজস্ব নিরাপত্তা আরো জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান সেখানে অব্যাহত থাকলেও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সদস্যরা এদেশে কোন ভাবে অনুপ্রবেশ করতে না পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি ও কোন ধরনের আইন শৃঙ্খলা জনিত পরিস্থিতির উদ্ভুট না ঘটে সে ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে সর্তক নজরদারি রাখতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শরণার্থী ক্যাম্পে দেশি বিদেশী বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম তদারকির আওতায় নেওয়ার সুপারিশ করে কুটনীতিক তৎপরতার মাধ্যমে শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০১২ সালের মত গুজব ছড়িয়ে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার মত কোন ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সেজন্য কক্সবাজার-বান্দরবান-রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকায় জেলা পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তি ও কর্মীদের সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গা, আরএসও বা দুষ্কৃতিকারী অনুপ্রবেশ রোধে জন সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রতিবেদনটির পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে দেশের দক্ষিণ পূর্ব দিকে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার জঙ্গল, পাহাড়, ঢিলা ইত্যাদি মিলিয়ে দূর্গম সীমান্ত এলাকা বললেই চলে। ১৯৯১ সালের শেষে দিকে মিয়ানমারের নাসকা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় অনুপ্রবেশ করে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষাধিক শরণার্থীকে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হলেও তাদের অধিকাংশই পুণরায় এদেশে ফেরত আসে।

২০০৫ সালের পর থেকে প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকায় এসব রোহিঙ্গারা স্থানী ভাবে বসবাস শুরু করেছে। জনবহুল বাংলাদেশের জন্য এ বসবাস অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যার প্রধান অন্তরায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে কক্সবাজার জেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে ভাষা, চেহারা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় রীতিনীতি ইত্যাদির মিল থাকায় নানা কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের প্রতি বেশ সহানুভুতিশীল। এ দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গারা স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে মিলে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, নারী ও শিশু পাচার, চোরাচালান, পতিতাবৃত্তি, ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের মত অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এভাবে পর্যটন জেলা হিসাবে খ্যাত কক্সবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কখনো কখনো অবনতি ঘটছে। বিভিন্ন অপরাধে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক মামলায় ২ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে সোপর্দ হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রোহিঙ্গা পাহাড় ও খাস জমিতে ঘরবাড়ি তৈরি স্থানীয় স্বার্থন্বেষী মহলের মদদে ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্তি পাহাড় ও গাছপালা কেটে পাচার করা, সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধ ভাবে মাছের পোনা আহরণ করা, বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাতায়াতসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে যুক্ত রয়েছে।

এব্যাপারে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, রোহিঙ্গা বা সে দেশের বিদ্রোহী কোন গোষ্টি যাতে এদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে নজরদারি ও সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে। তথাপিয় চোরাইপথ দিয়ে কিছু কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপ থেকে কুতুপালং পর্যন্ত বিজিবি’র নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছে। যাতে রোহিঙ্গারা কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

তিনি এও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব এনজিও সংস্থা কাজ করছে তাদের উপরও বিজিবি’র সর্তক দৃষ্টি রয়েছে।

Loading...