জামদানি এখন শুধুই বাংলাদেশের

৪:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৬ Breaking News, ফিচার, সুখবর প্রতিদিন, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – বাংলাদেশের প্রথম নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলো জামদানি। বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা-ডব্লিউআইপিও’র সহায়তায় মিলেছে এ স্বীকৃতি।

বৃহস্পতিবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখারের হাতে এ নিবন্ধন সনদ তুলে দেন। বিসিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) জামদানিকে এ নিবন্ধন দিল।

পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস্ অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার মো. সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের যে কয়টি পণ্য সুপরিচিত, এর অন্যতম জামদানি। এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পণ্য মসলিনের পঞ্চম সংস্করণ। একে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যগত সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে গেল। পর্যায়ক্রমে জাতীয় মাছ ইলিশসহ অন্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যকেও নিবন্ধন দেওয়া হবে।

এর ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যগত সম্পদ সুরক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

jamdani-amu

আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে ৭ শতাংশেরও বেশি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

তিনি বাঙালি জাতিকে ঐতিহ্যবাহী জাতি হিসেবে উল্লেখ করে এর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত সম্পদের সুরক্ষায় সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

জামদানির পর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডিপিডিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগিরই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইলিশ মাছও জিআই নিবন্ধন লাভ করবে।

এর আগে শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে হস্ত ও কারু শিল্পনীতিমালার ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনিয়র শিল্প সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি, বিসিক, নাসিব এবং হস্ত ও কারু শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা ছিলেন। সভায় হস্ত ও কারু শিল্পের উন্নয়নে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Loading...