ফৌজদারি মামলা হলেও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে!

২:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, সুখবর প্রতিদিন, স্পট লাইট

নিউজ ডেস্ক,সময়ের কণ্ঠস্বর:আলোচিত সরকারি কর্মচারী আইন ২০১৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এতে বিধান রাখা হয়েছে যে, সরকারি কাজ করতে গিয়ে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে আদালত চার্জশিট গ্রহণের আগে তাকে গ্রেফতার করতে চাইলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুদক যে কাউকে যে কোনো সময়ে গ্রেফতার করতে পারবে। তবে ব্যক্তিগত কারণে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হলে সরকার তার দায় নেবে না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি ছাড়াই চার্জশিটের আগে ওই কর্মচারীকে গ্রেফতার করা যাবে।

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের এই বিশেষ সুবিধা অন্য কোনো পেশার ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। এমনকি মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষেত্রেও নয়। সাংবিধানিক পদ, বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ আইনের আওতায় পড়বেন না। সরকারি কাজে কর্মচারীদের আরও উৎসাহিত করতে এমন বিধান রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা মনে করছেন, আইনটি প্রণয়ন হলে দেশে সাংবিধানিক বৈষম্য সৃষ্টি হবে। কারণ, এ আইনে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে পাশ কাটিয়ে শুধু সরকারি কর্মচারীদের একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে এ বিধান রাখা হয়েছে।

montrisova

রাজনীতি ও কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন :খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না। কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মচারীদের কাজকর্মের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা কঠোর অনুশাসন মেনে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে সহমর্মিতাবোধ বজায় রাখবেন। আইন অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবেন তারা। কাজকর্মে উৎসাহ দিতে জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সরকারি কর্মচারীদের পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে আইনটিতে।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মচারীর ক্ষতি হলে বা কেউ তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে ওই কর্মচারী আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। খসড়া আইন অনুযায়ী, যথোপযুক্ত সংস্থা কোনো কর্মচারীর দায়িত্ব পালন-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করতে এবং আদালতে অভিযোগ করতে পারবেন। তবে সরকারি কাজ করতে গিয়ে কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে তার চার্জশিট আদালত গ্রহণের আগেই তাকে গ্রেফতার করতে চাইলে সরকারকে জানাতে হবে।

কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করার পর তা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে ওই কর্মচারী অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবেন।

চাকরিকাল, বহাল, পুনর্বহাল ও অব্যাহতি :কোনো কর্মচারী যে কোনো সময়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে পারবেন। তবে সরকার নির্ধারণ করবে, কীভাবে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। চলতি নিয়মে ২৫ বছরের আগে কেউ চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে পারতেন না। খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী আদালকে দণ্ডিত হলে তাকে চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

Loading...