সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় শনিবারের মধ্যে ২ হাজার স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ সওজের

১২:৪৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

এফ এম সুমন, পেকুয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়ায় সড়ক সম্প্রসারনের জন্য দুই হাজার স্থাপনা শনিবারের মধ্যে সরিয়ে ফেলার জন্য মাইকিং করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। একাধিক দোকান মালিক অভিযোগ করেন কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ প্রেরন করা হয়নি ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের অনুকুলে ফলে তারা রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন।

pakua

জানা যায়, কক্সবাজারের সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলীর বরাত দিয়ে ৪ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ১১টার দিকে পেকুয়ায় এ মাইকিং ও প্রচারনা চালায়। মাইকিংয়ে জানানো হয়েছে পেকুয়া-মগনামা বরইতলী সড়ক সম্প্রাসারন কাজ চলবে। সড়ক সম্প্রসারনের জন্য আগামী শনিবারের মধ্যে সড়কের দু’পাশে অধিগ্রহণকৃত স্থান থেকে স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

সওজ সুত্রে জানা যায়, বরইতলী পেকুয়া-মগনামা সড়কের সম্প্রসারনের উদ্যেগ গ্রহন করেছে। সড়ক প্রশ্বস্থকরনের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মসূচীর উদ্যেগ নিয়েছেন। তবে পেকুয়া-মগনামা-বরইতলী সড়কের পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের (পেকুয়াবাজার) দু’পাশে সড়ক প্রশস্থকরন কাজ বাস্তবায়ন করার ঘোষনা দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই সড়ক সংস্কার করতে কিছুদিন আগে পেকুয়ায় সমীক্ষা শেষ করেছে। পেকুয়ার অন্যতম বানিজ্যিক এলাকা আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার (পেকুয়াবাজার) এ সড়কের নিকটতম স্থানে প্রতিষ্ঠিত। বাজারের মুল আয়তন হবে প্রায় এক কিলোমিটার। যার মধ্যে দুই হাজারের ও অধিক স্থাপনা রয়েছে। প্রায় সব ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার উপর গড়ে উঠেছে।

এদিকে আকর্ষিক সওজের মাইকিংয়ে পেকুয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সড়ক সম্প্রসারন করলে অধিগ্রহনকৃত জমির মালিক ও স্থাপনার মালিকরা ক্ষতি পুরন পেয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে ক্ষতিপুরন নিতে সংশ্লিষ্ট নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করনের নিয়ম আছে। কিন্তু পেকুয়ায় মাইকিং করলেও সওজ বিভাগ এ সম্পর্কে কোন ধরনের নোটিশ প্রেরন করেননি বলে ব্যবসায়ী ও স্থাপনার মালিকরা অভিযোগ করে আসছেন। আকর্ষিক ঘোষণার ফলে গতকাল পেকুয়ায় ব্যবসায়ীরা এক জরুরী সভা  আহব্বান করেছে।

এ সময় পেকুয়া বাজারের প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী বৈঠকে মিলিত হয়ে সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকায় তারা শংকিত। পেকুয়া বাজারের ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি ও হাজ্বী আকতার প্লাজার মালিক আকতার আহমদ, এম দেলোয়ার শপিং সেন্টারের মালিক শাখাওয়াত হোছাইন সুজন, সোহেল স্টোরের মালিক মোঃ শাকের, সুন্দরী ক্লথ স্টোরের মালিক মোঃ মোস্তাফিজ, শাহাদাত এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মঈনুদ্দিন, আছমা-শহিদ মার্কেটের মালিক মোঃ শহিদুল্লাহ, ইলাহী স্টোরের মালিক আবু ছালেক, মোশতাক আহমদসহ অনেক ব্যবসায়ী ও মালিকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের উন্নয়নের পক্ষে। কিন্তু তারা সরকারের কাছ থেকে নৈতিক সমাধান চান। জায়গা ও স্থাপনার ক্ষতিপুরন না পেয়ে তারা কোন ধরনের উচ্ছেদের পক্ষে নন।

তারা আরো জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি আমাদের যেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এ  বিষয়ে  জানতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (চকরিয়া-পেকুয়ার) উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি জায়গা যারা অবৈধ ভাবে দখল করে আছে সেগুলো অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আসবো স্থাপনা সরাতে।

Loading...