নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘সাহসিনী’ এক আফগান তরুনীর ব্যতিক্রমি প্রতিবাদ

বিশ্ব ‘কুর্নিশ’ জানাচ্ছে এই সাহসিনীকে!

আন্তর্জাতিক ফিচার ডেস্ক-

আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হেরাট ভীষণভাবেই এক পুরুষতান্ত্রিক দেশ।তুলনামুলক বেশি আকারে  নিত্যই এখানে ঘটে নারী নির্যাতনের গাঁ শিউরে উঠা সব ঘটনা ।উন্নত বিশ্বের মত এখানকার নারীরা প্রতিবাদি হয়ে দাড়াতে পারার সুযোগ রাখেননা সেই অর্থে।

তবে সেই দীর্ঘ নীরবতা ভেঙ্গে সেখানকার এক তরুনী রীতিমত ‘বিপ্লব’ ঘটিয়েছেন তার গানে।  তরুনীর নাম সরৌরি। পেশায় একজন গায়িকা । সরৌরি জন্মেছেন এখানেই। সেখানেই তার বসবাস। পুরুষতান্ত্রিকতা আর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গানের ভাষায় এই তরুনীর ‘প্রতিবাদ’কে ‘যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকেই। বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে বিশ্ব গনমাধ্যমেও। হাজারো সাধুবাদ পাচ্ছেন তরুনী।

সরৌরির গানের বিষয় মূলত নারীনির্যাতনের বিরুদ্ধে।

afgan-girl

“এখানে মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই অপরাধ! তার উপর সে যদি সমাজের চাপিয়ে দেওয়া অনুশাসন মেনে না চলে, তবে তো আরও বিপদ”, হাসতে হাসতে জানিয়েছেন গায়িকা।

ব়্যাপের তালে তালে সমাজ কী ভাবে নারীকে কোণঠাসা করে রাখে, তা ব্যঙ্গের ছলে গেয়ে চলেন তিনি- “এদেশে তুমি কথা বলতে পারবে না, কেন না তুমি নারী! তুমি হাঁটে-ফিরতে পারবে না, নারী বলে! স্রেফ নারী বলেই স্বাধীন চিন্তা করতে গেলে মাথায় এসে পড়বে বন্দুকের বাঁটের বাড়ি! ধর্ষণ আর অ্যাসিড-হানা তো তোমার নিত্যসঙ্গী হবেই, তুমি যে নারী!”

ভয়, বাধা ঝেড়ে ফেলে মুক্তকণ্ঠে এভাবেই জীবনের গান গাইছেন এই র‍্যাপ গায়িকা ।

এরইমধ্যে একাধিকবার মৃত্যুর হুমকি উড়ে এসেছে তাঁর দিকে। কিন্তু তিনি তা গায়ে মাখেন না! এমনটাই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। সাক্ষাতকারে তিনি জানান,’ আফগানিস্তানের সিভিল ওয়ারের সময় সেই দেশে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। দেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেই সময় শিশুকন্যাকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান আমার বাবা-মা। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে আসি  মাতৃভূমিতে।

উদ্বেলিত কন্ঠে তরুনী জানায়, “এটা আমার দেশ, আমার শিকড় এখানে। সেটা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না”।

তার গানের কয়েক ঝলক রইল নিচের ভিডিওতে। শুনে দেখুন, বুঝতে পারবেন বিশ্ব কেন কুর্নিশ জানাচ্ছে এই সাহসিনীকে!