খুব শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন

জামিঊল হাসান শুভ, ঠাকুরগাঁও পৌর প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও-ঢাকা ডুয়েলগেজ রেললাইন দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল খুব শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও স্টেশনমাস্টার মজনুর রহমান জানান, জনসংখ্যার চাপ ও যানজট নিরসনে এ রেলপথ ডুয়েলগেজে উন্নীত করা হচ্ছে। ঢাকা-ঠাকুরগাঁও সেকশনে বর্তমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরালে নতুন এ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণকাজ ৭০ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। আর মাত্র ৩০ ভাগ কাজ শেষ হলেই রেল যোগাযোগ শুরু হবে। ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১০ সালের অক্টোবরে ঠাকুরগাঁওয়ের মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করতে তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। দু’বার নির্মাণকাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৬ সালের মার্চ মাসে প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়।

তিনি আরও জানান, রেললাইনের কাজ শেষের দিকে। কিন্তু তাদের তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুর-পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৯টি রেলস্টেশন আছে। তার মধ্যে ১২টি স্টেশন লোকবল সংকটে বন্ধ রয়েছে।

ral-thakurgaon

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর ডুয়েলগেজের কাজ শেষ হয়েছে। তবে কবে নাগাদ ট্রেন চালু হবে এ নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি। ট্রেন চালু হলে সরাসরি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা এবং খুলনা যাওয়া এলাকাবাসীর জন্য সহজ হবে। এতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়বাসীরও সুবিধা হবে।

ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু জানান, ঠাকুরগাঁও কৃষিভিত্তিক এলাকা। এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণ ধান, গম, সবজি উৎপাদন হয়। সঠিক সময়ে যানবাহন না পাওয়ায় এসব পণ্য জেলার বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ দ্রুতগামী ট্রেন চালু হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষি বিপ্লব ঘটবে।

রেলচালক মনসুর আলম জানান, ডুয়েলগেজ ট্রেন চালু হলে এ এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে। খুব কম সময়ে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পারবেন।

তমা কনস্ট্রাকশনের ফিল্ড সুপারভাইজার তরিকুল ইসলাম বেলাল বলেন, ‘আমরা সুবিধামত কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগ কাজ হয়ে গেছে। কিছু ব্রিজের কাজ শেষ হলেই ডুয়েলগেজ ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে। আশা করছি, সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’