দূর্ঘটনা এড়িয়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের উপায়!

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

আজকাল রান্নার চুলায় এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বা  সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন ও জ্বালানী সুবিধা ভাল হওয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার অনেক শক্ত লোহা দিয়ে তৈরি করা হয়। তবুও সিলিন্ডার, ভাল্ব, হোস পাইপ ইত্যাদিতে লিক হতে পারে। তাই এই বস্তুগুলোর উপর সর্বদা নজর রাখা জরুরী।

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপক সুবিধা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে এর বিস্ফোরণ ঘটার সংবাদ পাওয়া যায়। এই বিস্ফোরণে হতে পারে অগ্নিকাণ্ড, হতে পারে প্রাণহানি। তবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এসব দূর্ঘটনা এড়িয়ে চলা সম্ভব।

এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় করণীয়

  • সর্বদাই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার অনুমোদিত ডিলার থেকে কিনবেন।
  • কেনার সময় কোম্পানির সীলমোহর, নিরাপত্তা ক্যাপ খুব ভালভাবে পরীক্ষা করে নিবেন। যদি সীল, নিরাপত্তা ক্যাপ ইত্যাদি না থাকে তবে সেই সিলিন্ডার কখনই নিবেন না।
  • সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ ছাড়া সিলিন্ডার সহজেই বিস্ফোরিত হতে পারে।
  • সিলিন্ডার নিয়ে আসার সময় টাকার রসিদটা নিতে ভুল করবেন না।

রান্নার সময় করণীয়

  • এলপিজি গ্যাস ব্যবহারের সময় ঘরের দরজা খোলা রাখবেন।
  • আগুনের পাশে কোন ধরনের দাহ্য বস্তু, প্লাস্টিকের পণ্য ইত্যাদি রাখবেন না।
  • রান্নার সময় এদিক-ওদিক ছোটাছুটি না করাই ভাল।
  • রান্না শেষে প্রথমে রেগুলেটর নব ও পরে চুলার নব বন্ধ করে দিবেন। অন্যথায় পাইপে গ্যাস থেকে যাবে।
  • গ্যাস এজেন্সী অথবা কাস্টমার কেয়ারের ফোন নম্বর সব সময় কাছে রাখবেন। কোন প্রকার লিক ধরা পড়লে দ্রুত তাদের সহায়তা নিবেন।
  • লিক দেখার পর ভুলেও দিয়াশলাই জ্বালাবেন না। বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করবেন না। আগুন জ্বলতে পারে এমন সব উপকরণ বন্ধ করে রাখবেন এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ফোন করবেন।

এলপিজি গ্যাসের সঠিক ব্যবস্থাপনা

  • গ্যাস বিহীন অব্যবহৃত সিলিন্ডারের রেগুলেটর নব খুলে রাখবেন।
  • সিলিন্ডারটি দাহ্য পদার্থ থেকে দূরে রাখবেন। গ্যাসের চুলায় আপনার স্যাঁতসেঁতে দিয়াশলাই শুকাবেন না।
  • সিলিন্ডারের বিভিন্ন জোড়ার স্থানে সাবানের পানি ঢেলে লিক পরীক্ষা করবেন। সাবানের পানির বুদবুদ থেকে লিকের অবস্থা বুঝে নিবেন।
  • কোনোভাবেই আগুন জ্বালিয়ে লিক দেখার চেষ্টা করবেন না। এতে সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে।
  • পুরনো, কাটা-ফাটা, গ্যাস পাইপ, রেগুলেটর ব্যবহার করবেন না। প্রায় ৫০% দূর্ঘটনা একারণেই ঘটে।
  • খেয়াল রাখবেন এলপিজি সঠিকভাবে চলছে কিনা। যদি না চলে তবে খুব ভালভাবে পরীক্ষা করবেন। কোনো প্রকার সমস্যা পেলে দ্রুত ডিলার বা এজেন্সীর সাথে যোগাযোগ করবেন।
  • এলপিজি সিলিন্ডারটিকে আঘাত করবেন না। অনেকেই গ্যাস শেষের দিকে আসলে সিলিন্ডারে আঘাত করেন, কিছুটা গরম করারও কথা শোনা যায়। এসব কখনই করবেন না। এতে সিলিন্ডারের লোহা দ্রুত দূর্বল হয়ে পড়ে। যা তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তীতে গ্যাস আনলে মারাত্মক দূর্ঘনার কারণ হতে পারে।