মির মাইনঃ বৃহৎ এক হিরার খনি!

মির মাইন

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর ।

বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভূতত্ত্ববিদরা পৃথিবীর নানা যায়গায় মৃত্তিকা পরীক্ষা ও খনিজ পদার্থের সন্ধান করে থাকেন। মাটি ভূমিকম্প সহ্যসম্পন্ন কিনা তা পরীক্ষা থেকে শুরু করে হীরা, সোনাসহ অনেক মুল্যবান পদার্থ এর আবিষ্কার করে থাকেন।

তেমনি তিনজন রাশিয়ান ভূতত্ত্ববিদ ইউরি খাবাড়দিন, ইকাটিরিনা ইলাগিনা এবং ভিক্টর এভদিনকো তাদের ইয়াকুট এএসএসআর এ  অবস্থিত আমাকিনস্কি অভিযানে বেড়িয়ে পরেন। ওই অভিযানের সময় তারা কিমবারলাইট আগ্নেয় খনিজ পদার্থের সন্ধান পান যেটা হীরার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

পরবর্তী বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে তারা অনেক বিশাল এক অমূল্য সম্পদ এর ভান্ডার আবিষ্কার করে ফেলেছেন।  ১৯৫৫ সালের ১৩ জুন আবিষ্কার করেন পৃথিবীর অন্যতম বিশাল এক হীরার খনি। কে জানতো এই অভিযানেই তারা আবিষ্কার করে ফেলবেন বিশ্বের অন্যতম বড় এই হীরার খনি। যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মির মাইন’।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরার খনি বিংগহাম ক্যাননের পরেই মির মাইনের অবস্থান। এই হীরার খনিটি রাশিয়ায় অবস্থিত। পূর্ব সাইবেরিয়ার মেরিনা অঞ্চলে ‘মির মাইন’ আবিষ্কার করা হয়। ১৯৫৭ সালে এই অভিযানে সফলতার জন্য খাবাড়দিনকে লেনিন পুরস্কার দেয়া হয়। যে টিকে রাশিয়ায় অন্যতম বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে গণ্য করা হয়।

পূর্ব সাইবেরিয়ার মেরিনা অঞ্চলে ৫২৫ মিটার বা ১ হাজার ৭২২ ফুট গভীরতা ও ১২০০ মিটার বা ৩৯০০ ফুট গভীরতাবিশিষ্ট মির মাইন নামের এই হীরার খনিটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও গভীর খনিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

খনিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। বাইরের লোকদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই এলাকায় ঢুকতে হয়। বিদেশি যে কাউকে এখানে কঠোর সন্দেহের চোখে রাখা হয়। খনি থেকে প্রাপ্ত আকরিক, খনিজগুলো প্রসেস করার জন্য ২০ কিমি দূরের পান্টে নিয়ে যাওয়া হয়।

শীতকালে এখানে কাজ করতে অনেক অসুবিধা হয়। মূলত টায়ার শক্ত হয়ে যাওয়া ও ডিজেল ঠাণ্ডায় জমে যাওয়ার কারণে গাড়িগুলোর চলাচলে অসুবিধা হয়। সে কারণে তারা ডিজেলের বদলে জেটওয়েল ব্যবহার করে।

১৯৬০ সালে খনিটি থেকে বাৎসরিক হীরা উৎপাদন হতো প্রায় ১ কোটি ক্যারট যা প্রায় ২০০০ কেজির সমান। খনির উপরিভাগে ৩৪০ মিটারের মধ্য হীরার ঘনত্ব বেশি ছিল। তখন ১ টন আকরিক ধাতুর মধ্য প্রায় ০.৮০ গ্রাম হীরা পাওয়া যেত। খনির নিচের দিকে হীরার ঘনত্ব কমে আসে এবং তা প্রায় প্রতি ১ টন আকরিক ধাতুর মধ্যে মাত্র ০.২০ গ্রাম পাওয়া যেত।

বাৎসরিক প্রায় ২,০০০,০০০ ক্যারট বা ৪০০ কেজি ওজনের হীরা পাওয়া যেত।১৯৮০ সালে ২৩ ডিসেম্বর  খনির সবচেয়ে বড় আকৃতির হীরাটি পাওয়া যায় যার ওজন ছিল ৩৪২.৫ ক্যারট বা ৬০ গ্রাম।খনিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে।

১৯৯০ সালে খনিটি বন্যার কারণে কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ২০০১ সালে এসে এটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আলরোসা খনিটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। খনিটি পরিত্যাক্ত হওয়ার শেষের দিকে বাৎসরিক প্রায় ৪০০ কেজি ওজনের হীরা পাওয়া যেত।  নিঃসন্দেহে রাশিয়ার অর্থনীতিতে খনিটি এক  বিশাল অবদান রেখে গিয়েছে।

‘মির মাইন’ আবিষ্কারের  জন্য ইতিহাসের পাতায় ইউরি, ইলাগিনা ও এভদিনকোর এর নাম লেখা হয়েগেছে স্বর্নাক্ষরে। বর্তমানে ‘মির মাইন’ নামক এই খনিটির কার্জক্রম নেই,তবু রয়েগেছেন রাশিয়ান এই তিন ভূতত্ত্ববিদ।

সুত্রঃ ইন্টারনেট।