ভালো ঘুম সহ দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাবার অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর: রান্নায় মেশালে স্বাদ বাড়ে। ত্বকে ব্যবহার করলে সৌন্দর্য বেড়ে যায়। বলছি হলুদের কথা। কাঁচা হলুদই হোক আর গুঁড়া হলুদ—দুটোরই আছে গুণ। দুধের সঙ্গে অল্প হলুদের রস মিশিয়ে পান করা শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্যই ভালো। এক গ্লাস দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে, তা আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী জানেন? দুধ এবং হলুদ, এই দুয়ের মিশ্রণ আমাদের শরীরের অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। যা আমাদের শরীরেকে বিভিন্ন ইনফেকশন এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। জেনে নিন এই হলুদ দুধের আরও পাঁচ উপকার-

যে কোন ব্যথা দূর করে

প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকার কারণে হলুদ দুধ যেকোনো ব্যথা, যন্ত্রণার হাত থেকে আমাদের মুক্তি দেয়

কফ এবং ঠান্ডা দূর করে

হলুদ-দুধ কফ এবং গলার প্রদাহ দূর করার জন্য একটি উপকারী ঘরোয়া দাওয়াই। হলুদের অ্যান্টিসেপটিক এবং এসট্রিজেন্ট উপাদান দুধের সঙ্গে মিলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং শুষ্ক কফ দূর করে।

মাথাব্যথা

হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান দুধের পুষ্টির সঙ্গে মিশে প্রাকৃতিক অ্যাসপেরিনের কাজ করে, যা মাথাব্যথা রোধে বেশ কার্যকরী। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা রোধেও এই দুধ উপকারী।

হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধ করে

হলুদে কারকুমিনের উপস্থিতির জন্য হলুদ-দুধে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান থাকে। এটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে এবং এর বৃদ্ধিও প্রতিরোধ করে। হলুদ-দুধ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

dudhভালো ঘুমের জন্য

আপনার কি দিনে-রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমাতে কষ্ট হয়? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস হলুদ-দুধ পান করুন। দুধে রয়েছে সেরোটোনিন (মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ) এবং মেলাটোনিন, যেটা হলুদের বিভিন্ন পুষ্টিগুণের সঙ্গে মিশে চাপ দূর করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

আরথ্রাইটিস প্রতিরোধে

হলুদ-দুধে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান, যা গাঁট বা গেরোর শক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া ব্যথা দূর করে আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর পেশির নমনীয়তা বাড়ায়।

রক্ত পরিশোধন করে

হলুদ-দুধ রক্ত পরিশোধিত এবং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর পুষ্টি রক্তে সঞ্চালন ভালো করে। হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের লিমপ্যাথিক পদ্ধতি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে

ঋতুস্রাবের সময় অনেক ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাতে বাধা তৈরি হয়। এটি একটি প্রচলিত সমস্যা। নিয়মিত হলুদ-দুধ খেলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিসপ্যাসমোডিক উপাদান রয়েছে, যা ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে। রক্তপাতের বাধাকে দূর করে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

আর্থারাইটিস নির্মূল করতে

আর্থারাইটিস নির্মূল করতেও খুবই উপকার করে হলুদ দুধ। গাঁটে ব্যথা কমিয়ে গাঁট এবং পেশিকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

হজমে সাহায্য করে

হজমের জন্য খুবই উপকারী হলুদ দুধ। এটি আলসার, ডায়রিয়া, হজমের গোলমালের সমস্যা দূর করে। শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।

জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন হলুদমিশ্রিত দুধ-

যা যা লাগবে
কাঁচা হলুদ- এক ইঞ্চি (টুকরা করা)
দুধ- ২২০ মিলি
চিনি অথবা মধু- স্বাদ মতো
গোলমরিচ গুঁড়া- এক চিমটি

যেভাবে প্রস্তুত করবেন

একটি পাত্রে হলুদ কুচি ও দুধ একসঙ্গে ফুটান। চুলা থেকে নামিয়ে ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। গরম থাকতে থাকতেই ছেঁকে মধু অথবা চিনি মিশিয়ে নিন। গোলমরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করুন হলুদ-দুধ। চাইলে কাঁচা হলুদের বদলে হলুদ গুঁড়া মিশিয়েও বানাতে পারেন হলুদ-দুধ।

এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং চিনি মেশান। এরপর অল্প আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটান। ফুটানোর সময় সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো দিন। একে ঠান্ডা হতে দিন এবং কুসুম কুসুম গরম হলে পান করুন। উপকারগুলো পেতে প্রতিদিন হলুদ-দুধ পান করতে পারেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
* লিভারে যাঁদের সমস্যা আছে বা লিভারের রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে, তাঁরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী হলুদ খাবেন। বেশি হলুদ খাওয়া তাঁদের জন্য ক্ষতিকর।
* খাবারে কার কতটুকু হলুদ গ্রহণ করা উচিত, তা অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
* ল্যাক্টোস ইন্টলারেন্ট হলে দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে দুধ বাদ দিয়ে মধু বা শুধু হলুদ অল্প পরিমাণে খেতে হবে। অথবা সয়া দুধও নেওয়া যেতে পারে।
* দুরারোগ্য কোনো লিভারের অসুখ হলে হলুদ যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হবে। কী পরিমাণে গ্রহণ করা যাবে, তা জেনে নিতে হবে চিকিৎসকের কাছ থেকে।
* ত্বকে সহ্য না হলে হলুদের ব্যবহার বাদ দিন।
* দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা হলুদ না খেয়ে মাঝেমধ্যে বিরতি দিতে হবে।
* অতিরিক্ত হলুদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। খেতে হবে
পরিমাণ মতো।