কাশি এবং ঠান্ডায় করণীয় যা কিছু!

ঠান্ডা ও কাশি

রাবেয়া মাশফেরাত মেরী,লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর,সময়ের কন্ঠস্বর।

কাশি এবং ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় একটি প্রচলিত সমস্যা । প্রায় প্রত্যেকেই ঠান্ডা দিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এটা খুবই যন্ত্রনাদায়ক হয় যদি তা ৩-৪ দিনেরবেশী স্থায়ী হয়।

ঠান্ডা ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাস আছে তাই তাদের কে উপেক্ষা করা কঠিন। যদি আপনি  এক প্রকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকরে থাকেন, তখন আপনি খুব সহজেই অন্য রকমের ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।আরো ভয়াবহ রকমের কিছু ভ্যাক্সিন আছে ।

ভাইরাস বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে ছড়িয়ে পরে যা সংক্রামিত লোকের মুখ, নাক, দিয়ে বের হয় যখন তারা কাশি অথবা হাঁচি দেয়। এই ফোটা যে কাউকে খুবসহজেই আক্রান্ত করতে পারে কারন তারা আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথেই আছেন, যেহেতু তারা একই বাতাস নিচ্ছেন, অথবা এটা একই কাপ, চামচ, অথবা হাতলথেকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

ঠান্ডার উপসর্গ হল কাশি, হাচি, একটি বন্ধ নাক, একটি ভাঙ্গা গলা, মাথা ব্যথা, এবং হালকা জ্বর। যদি আপনার শুধুমাত্র এই উপসর্গ গুলো থেকে থাকেআপনার চিকিৎসক দেখানোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র ঔষধই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

যখন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেনঃ 

১)যদি আপনি অথবা আপনার বাচ্চার খুব গুরুওত অন্তর্নিহিত কোন অবস্থা আছে যেমন অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, অথবা হৃদরোগ।

২)যদি আপনার ৪ সপ্তাহ অথবা এর থেকে বেশী সময় ধরে কাশি স্থায়ী হয় ।

৩)যদি আপনার অনেক বেশী তাপ থাকে শরীরে এবং সাথে মাথা ব্যথা ও পেট মোচরানোর সমস্যা থাকে।

৪)যদি আপনার বাচ্চার কাশি গুরুতর হয় যা বমির উদ্রেক ঘটাতে পারে।

৫)যদি আপনার বাচ্চা পান করা বন্ধ করে দেয় এবং দূর্বল হয়ে পড়ে।

৬)যদি জ্বর প্যারাসিটামলে ভাল না হয়।

চিকিৎসাঃ

১)ভেজা নাক- সাধারন এন্টিহিস্টামিন দিয়ে চেষ্টা করুন। অনেক রকমের আছে, তবে কিছু এন্টিহিস্টামিন ঘুম ভাব নিয়ে আসতে পারেসেগুলো সকালে খাওয়া উপেক্ষা করুন। আপনি এলাট্রল খেতে পারেন (সেট্রিজিন HCl 10 mg) শুয়ে পরার সময় অথবা লোড়াটিন ট্যাবলেট(লোরাটিডিন ১০ মিলিগ্রাম)।

২)মাথা ব্যথা এবং জ্বরের জন্য- ক্যাফেইন এর সাথে প্যারাসিটামল নিতে পারেন যেমন এইস প্লাস (500mg) ঠান্ডার সময় বেশ ভাল কাজ করে। দিনে তিনটিট্যাবলেট মাথা ব্যথা, শরীরব্যাথা এবং জ্বর কমায়।

৩)ন্যাজাল ডিকঞ্জিস্টেন্স ব্যবহার করতে পারেন যদি নাক বন্ধ হয়ে থাকে।

৪)মেন্থল গলিয়ে বাষ্পাকারে নিলে সেটা সত্যিই ভাল কাজ করে।

৫)বাসার তৈরী জিনিস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, যেমন আদা চা, গরম মধু, তুলসী পাতা ইত্যাদি।

ঠান্ডার সময় অ্যান্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনীয় যেহেতু তারা ভাইরাসের কারনে হয়েছে। এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে সেখানে ঠান্ডাভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে তাই এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনীয়। কিছু সময় আপনাকে এন্টিবায়োটিক এর পরামর্শ দেওয়া হবে যখন আপনার কোনব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হবে।বেশীরভাগ জ্বরের ক্ষেত্রে এন্টীবায়োটিক দেওয়া হয় তবে সেটা খুবই কম।

ঠান্ডা এবং বাচ্চাঃ 

বাচ্চাদের চিকিৎসা একই ভাবে হতে পারে যেভাবে প্রাপ্তবয়স্কের হয়ে থাকে। প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ঔষধ ঠান্ডার সময় নেওয়া হতে পারে যেমন সিরাপ৩ মাসের বাচ্চদের ক্ষেত্রে নেওয়া যেতে পারে। আপনি বাচ্চাকে যে ঔষধ দিচ্ছেন তা শিশুবিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে নিতে পারেন সেটা তাদের জন্যনিরাপদ কিনা।