কালিয়াকৈরে পৃথক স্থান থেকে শিশুসহ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে দেড় বছরের এক শিশুসহ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

mito

গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ঢালঝোড়া গ্রাম থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ এবং একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেড় বছরের এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলো – গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালঝোড়া গ্রামের মৃত ফটু মিয়ার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল লতিফ (৩২) এবং জয়পুরহাট জেলার কালাই থানাধীন চকবাড়ই গ্রামের রাশেদুল ইসলামের দেড় বছরের ছেলে ফয়সাল। সে তার বাবা ও সৎ মায়ের সাথে উপজেলার রতনপুর এলাকার বেলায়েত হোসেন এর ভাড়া বাড়িতে থাকতো। পরে মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মানসিক ভারসাম্যহীন নিহত আব্দুল লতিফ এর মা বাছিরন নেছার বরাত দিয়ে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ মোশারফ হোসেন তুহিন জানান, বিগত ২০১২ সাল থেকে লতিফ মানসিক ভারসম্যহীনভাবে হয়ে পড়ে। এর পর থেকে সমাজে সে মানসিক ভারসাম্যহীন ভাবেই চলাফেরা করতো।

ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের ভাবী করপুলী বেগম তাদের উত্তরের ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি পেচানো অবস্থায় লতিফকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং লতিফকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে আনেন। পরে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফয়সাল নামের দেড় বছরের এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পিতা রাশেদুল ইসলাম, সৎ মা জবা বেগম এবং খালা কুলসুম আক্তার জলিকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের পিতা মোঃ রাশেদুল জানায়, সে এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী জবা বেগম স্থানীয় করনি নিটিং কারখানায় চাকুরী করেন। দুপুরে তার ছেলে ফয়সালকে দুধ-ভাত খাওয়ালে কিছুক্ষণ পরে সে বমি করে। বমি করার ফলে তাকে লবন-পানি খাওয়ানো হয়। পরে তার খালা কুলসুম আক্তারের কাছে রেখে তারা দুই জনই কারখানায় চলে যায়।

পরে তার ছেলে আরো দুই/তিনবার বমি করলে পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া মনিরুল ও ফয়সারের খালা কুলসুম পরে তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সফিপুর মডার্ণ হাসপাতালে পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মোতালেব মিয়া সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।