পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম রহস্য ইষ্টার দ্বীপের মূর্তি এবং রোনকের অস্থায়ী বাসিন্দা!

ইষ্টার দ্বিপের মূর্তি

আবদুল্লাহ আল নোমান, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

ইষ্টার দ্বীপের মূর্তি: 
১৭২২ সালে বিশাল পাল যুক্ত জাহাজ যখন সর্ব প্রথম আসে ইষ্টার দ্বীপে তখন জাহাজের নাবিক আর ক্রু  সবাই খুবই ভয় পেয়েছিল দ্বীপটি দেখে। তারা দূর থেকে দেখতে পায়, সু-উচ্চ দ্বীপ থেকে দানবাকৃত অনেক মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই ঘাবড়ে গিয়েছিল, দানবাকৃত মানুষগুলো কোথা থেকে এলো আর কেনই বা তাদের দিকে তাকিয়ে আছে?

তারা লক্ষ্য করে দেখতে পায় দানবাকৃত মানুষগুলো নড়াচড়া করছে না! জাহাজের নাবিক নির্দেশ দিলেন আস্তে আস্তে জাহাজকে দ্বীপের কাছে নিয়ে যেতে। কাছে গিয়ে দেখতে পান, আসলে এগুলো আসলে দানবাকৃত মানুষ না, পাথরের মূর্তি! ইষ্টার দ্বীপ হল প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট একটা দ্বীপ। দ্বীপটি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ২০০০ মাইল এর বেশী দুরুত্বে অবস্থিত। এটা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন একটা জায়গা।

সবচেয়ে বড় মূর্তি গুলোর উচ্চতা লম্বায় ৬০ ফুট যার ওজন ১০০ টন এর বেশী। এছাড়া ছোট ছোট আরো ১০০টির মত মূর্তি রয়েছে যার উচ্চতা ১৫ ফুট। সবগুলো মূর্তিই পাথর দিয়ে তৈরি। আশ্চর্যের বিষয় হল, মূর্তিগুলোর মুখগুলো দেখতে খুবই ভাবগম্ভীর্যপূর্ন এবং চেহারায় কোন হাসি নেই।

অনেক আগে ইষ্টার দ্বীপের বাসিন্দারা ভলকানিক আগ্নেয়গিরির থেকে প্রাপ্ত পাথর দিয়ে মূর্তিগুলো তৈরি করেছিল বলে ধারনা করা হয়! পরবর্তীতে সেগুলো দ্বিপের সৈকতে নিয়ে রেখেছিল যা কিনা আগ্নেয়গিরি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। প্রাপ্ত হিসেব মতে এই দূরত্ব ১০ মাইল এর বেশী।

কেউ জানে না, কিভাবে দ্বীপের বাসিন্দারা এই মূর্তিগুলো সৈকতে নিয়ে রেখেছিল। কিছু বিজ্ঞানীর মতে, দ্বিপে অনেক আগে তাল গাছ ছিল। দ্বীপের বাসিন্দারা সেগুলো কেটে মূর্তিগুলো তার উপর রেখেছিল। পরে ৭০ জন বা তার অধিক মানুষ সেগুলো ঠেলে ঠেলে সৈকতে নিয়ে গিয়েছিল! অন্য অন্য বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বকে ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কারন তাদের মতে সেখানে কখনই তাল গাছ ছিল না!

দ্বীপের বাসিন্দারা কিভাবে মূর্তিগুলো সেখানে নিয়ে গিয়েছিল আর তাদের উদ্দেশ্যই বা কি ছিল? তা আজও পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্য।

রোনকের অস্থায়ী বাসিন্দা

ষোলশ শতকে উত্তর আমেরিকাতে অল্প কিছু ইউরোপিয়ান বাস করত। ১৫৮৭ সালে, ১০০ জন মানুষের একটা ছোট গ্রুপ সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণে যাওয়ার। তারা রোনক নামক ছোট একটা দ্বিপে গিয়ে উঠে যেটা পরবর্তীতে নর্থ কেরোলিনার প্রদেশ হয়।

দুঃখ্য জনক-ভাবে এটা সত্যি যে একটা দ্বীপে উঠার জন্য যেই পূর্ব প্রস্তুতি দরকার তা তাদের ছিল না। শীতের সময়ের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং চাষাবাদের জন্য বীজ এর অভাব ছিল। এমতাবস্থায়, তাদের নেতা নাবিক হোয়াইট সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড এ ফিরে গিয়ে প্র্য়োজনীয় জিনিষ নিয়ে আসার। সেই সময় ইউরোপে যুদ্ধ চলছিল তাই নাবিক হোয়াইট ইংল্যান্ডে এসে আর দ্বিপে ফিরে যেতে পারেননি।

তার তিন বছর পর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নাবিক হোয়াইট দ্বিপে যান। আশ্চর্যের ব্যাপার তিনি জাহাজ করে দ্বীপে গিয়ে কাউকেই দেখতে পেলেন না। সম্পূর্ন জনমানব শূন্য মরুভূমি ছারা আর কিছুই দেখতে পেলেন না তিনি।

কেউ জানে না, এতোগুলো মানুষ কোথায় হারিয়ে গেল! অনেকেই মনে করেন আমেরিকানরা তাদের হত্যা করেছে কিন্তু সেখানে হত্যার কোন নিশানা ছিল না! আবার অনেকে বলেন, না খেয়ে বা রোগে ভূগে মারা গেছে লোকগুলো কিন্তু তাহলে দেহ গুলো গেল কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেনি।

এই ঘটনাও পৃথিবীর মানুষের কাছে আজও রহস্যময়।