• আজ ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পটিয়ায় ভুয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সয়লাব, দেখার যেন কেউ নেই

৬:৪৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৭ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

পটিয়া প্রতিনিধি-  চট্রগ্রাম শহরের অতীব কাছের উপজেলা পটিয়া। পটিয়া কর্নফুলী বাজার সহ উপজেলার একাধিক বাজারে ভূয়া হাতুড়ে ডাক্তারের সয়লাবে ছেয়ে গেছে ফলে অসহায় রোগিরা। অনেকে চায়ের দোকানে পুর্বে চাকরি করলে ও বর্তমানে ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দেওয়ার মতো ও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

যত্রতত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনের অনুমতিবিহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যেখানে ল্যাব পরিক্ষার নামে দিনদুপুরে গলাকাটা বানিজ্য চলছে। ডাক্তারের অনুপস্থিতি তে কর্মীরাই রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে দেদারছে।

doctor_graphic

প্রতীকী ছবি

সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দীর্ঘ সময়ে পটিয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা না করায় এসব ব্যবসা ঠের গজিয়ে ওঠার ও অভিযোগ করেন অনেক স্থানীয় জনগন।

স্থানীয় বেশির ভাগ বাজারে নামসর্বস্ব সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে নিজেদের নামের আগে ডাক্তার উপাধি আর ডিপ্লোমা, প্যারামেডিক , এলএমএএফ,ডিএইসএস, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভূতপুর্ব চিকিৎসক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শব্দ লাগিয়ে দেদারছে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি এসব ভুয়া ডাক্তারের পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় গড়ে ওঠেছে হারবাল টনিক নামে কবিরাজির রমরমা ব্যবসা। গাছের বাকল ছাল পিষে গরু মোটাতাজাকরণ ঔষুধ মিশিয়ে খোলা বোতলে বাজারজাত করে দুরুহ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত এসব হারবাল সেন্টার।

রোগ মুক্তি তো দুরের কথা, এসব ভুয়া চিকিৎসকের ঔষুধ খেয়ে নানা জটিলতায় ভুগছে হাজারো রোগী। দিন দিন গ্রামের মানুষ শোচনীয় অবস্থায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও জানা যায়।

এসব বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, কর্নফুলী চরপাথরঘাটা খোয়াজনগর বাজারের এক গ্রাম্য ভূয়া ডাক্তারের কথা। যার ভিজিটিং কার্ডে লেখা বহু পদবী নিচে লেখা রয়েছে উপ-সহঃ কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ চট্রগ্রাম, বিএমডিসি রেজিস্টার নং বিএমডিসি ডি এমনকি ট্রেইনড ইন চাইল্ড হেলথ, ভূত পুর্ব চিকিৎসক আশরফ হাসপাতাল নোয়াখালী।

যিনি দীর্ঘদিন যাবত ডাক্তার নাম ভাঙ্গিয়ে কর্নফুলী খোয়াজনগরে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে রোগীদের। গ্রামে তাকে ডাক্তার বলে সম্বোধন করে। গ্রামীণ এলাকায় ঔষধ বিকিকিনীর জন্য নিজ মালিকানাধীন একটি ফার্মেসীও আছে। সেখানে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে নিজেকে ডাক্তার অবহিত করে চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তবে তিনি কতটুকু পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তার তথ্য জানা যায়নি।

বাংলাদেশ সরকার আইনে রয়েছে এম.বি.বি.এস কিংবা এর সমমান প্যারা মেডিক্যাল সনদ ছাড়া ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করা যাবেনা। একমাত্র রেজিস্ট্রিাট চিকিৎসক ছাড়া এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার নিয়ম না থাকলেও ঠান্ডা জ্বরে ও নিয়মিত এন্টিবায়োটিক দিয়ে যাচ্ছে অহরহ।

উচ্চতর প্রশিক্ষন সনদ গ্রহন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ ইছানগর, খোয়াজনগর, চরলক্ষা, শিকলবাহা, কলেজ বাজার, ক্রসিং, শান্তিরহাট, তোতারহাটে অনেকে এখন মস্ত বড় ডাক্তার। অনেক জড়িল রোগের চিকিৎসাও করছে শতাধিক এসব ভুয়া চিকিৎসক। ভুল চিকিৎসায় প্রতারিত হচ্ছে অগনিত রোগী। কিন্তু এসব কিছুর তোয়াক্কা নেই তার কাছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের দোষামোদ করে বছরের পর বছর চিকিৎসক হিসাবে ব্যবসার ফাঁদ তৈরি করে রয়েছে যেনো এসব দেখার কেউ নেই।

সরেজমিন পরিদর্শনে শিকলবাহা মইজ্জারটেক মোড়ে দেখা যায় শাহ আমানত ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেখানে ডাক্তারের কোন দেখা নেই। সাদা পোশাকে নার্সধারী অল্প বয়স্ক মেয়েরাই করে যাচ্ছে সব। এমন শতাধিক ল্যাবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে পটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন বাজারে।

বর্তমানে স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের নতুন আইনে সংশোধিত করে স্বাস্থ্য সেবার বহু নিয়ম পরিবর্তন করলেও কেহ নিয়ম নীতি মানছেনা । এমনকি সরকারি নিয়মে উল্লেখ্য রয়েছে এ সমস্ত মেডিকেল অ্যাসিষ্ট্যান্ট বা হেলপার মুলত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা সরকারি ডিগ্রীধারী ডাক্তারদের সহযোগি হিসাবে কাজ করবে। কিছুতেই ডাক্তারদের হেলপার কখনো ডাক্তার হতে পারেনা। যদিও পটিয়ায় অসংখ্য হাতুড়ে ভুয়া ডাক্তারের ভিড়।

এ বিষয়ে আদৌও তারা ডাক্তার কিনা বা চিকিৎসা দেবার মতো যোগ্য কিনা এমন প্রশ্ন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করা এক গ্রাম্য ডাঃ জানান, তিনি ডাক্তারী পাশ করেছেন এবং সব রোগের চিকিৎসা দিতে পারেন বলে জানান। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ঔষুধ ব্যবসা, ভুয়া ডাক্তার ও ল্যাবের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হচ্ছেনা মর্মে এমন প্রশ্ন করলে পটিয়া উপজেলা থানা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হাশেম জানান, অতি শীঘ্রেই সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এসব অভিযোগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্রগ্রাম সিএসসিআরে থাকা মেডিসিনে বিভাগীয় প্রধান,সাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম,এ ফয়েজ জানান, ১৯৮৭ সালের পুর্বে এলএমএএফ নামে একটা তিন মাসের কোর্স ছিলো ঔষুধ বিক্রির, আজ তারা গ্রামে গন্জে বড় ডাক্তার। হেলপার যদি ডাক্তার হতে পারে তাহলে এফসিপিএস ও এফআরসিপি পিএইডি কি দরকার ছিলো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ করেন তিনি।

Loading...