চাটমোহরে আ’লীগ নেতা কর্তৃক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাষ্টার কর্তৃক চাটমোহর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল বাশার মো. শামসুজ্জামান কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে চাটমোহর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আধাঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কমসূচি ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন, চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সভা শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে ওই নেতার বিচারের দাবিতে ইউএনওর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। আগামী শনিবারের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত কারী আওয়ামীলীগ নেতাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তারা। অন্যথায় আগামী রবিবার থেকে আরো কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

pabna-awamilig-human

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, সোমবার ফৈলজানা ইউনিয়নের কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের‘মিটিং শেষে স্কুলের দোতলা থেকে নামার পরপরই আ’লীগ নেতা আব্দুল হামিদ মাষ্টার জানতে চান, শিক্ষা অফিসার কে ? পরিচয় দেওয়ার সাথে সাথে তিনি আমাকে চড় মারেন।’ কী কারণে এ ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসার বলেন,আমি কিছুই জানি না। তিনি বলেন, ‘জীবনে কোন অন্যায় করিনি, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। জীবনের সততা ও নিষ্ঠার এক পরম শিক্ষা আমি পেলাম।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা জানান, স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। এভাবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করা হলে আমরা কোথায় যাবো। জেলা প্রশাসক মহোদয় যে ব্যবস্থা নিতে বলেন আমি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
চাটমোহরে কিছু উচ্ছৃখল আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক একের পর এক সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এ সমস্ত নেতা কর্মী দলের গুরত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন। ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবার পাশাপাশি ভেঙ্গে পড়তে বসেছে চাটমোহরের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এনিয়ে চাটমোহরের সকল মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ।