‘গ্যালিভার্স ট্রাভেলস’ এর জনক এক ব্যাঙ্গাত্মক-কবিঃ জোনাথন সুইফট (প্রথম পর্ব)

জোনাথন সুইফট

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর ।

ইংল্যান্ডে তখন গৃহযুদ্ধ চলছিল। জোনাথন সুইফট(সিনিয়র) ও আবিগেইল এরিক দম্পতি তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ভাগ্যান্বেষণে  আয়ারল্যান্ডে চলে আসেন। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে থাকা অবস্থাতে জোনাথন সুইফট(সিনিয়র)এর মৃত্যুর পর ১৬৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর  জন্ম গ্রহণ করেন ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ,সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাঙ্গাত্মক-কবিতা লেখক ‘জোনাথন সুইফট’। যিনি ছিলেন  বিখ্যাত অ্যাংলো-আইরিশ প্রাবন্ধিক,ব্যাঙ্গাত্মক-কবিতা লেখক ও পাদ্রী।

বাবা মারা যাওয়ার পর মা আবিগেইল এরিক পুণরায় ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। তবে তিনি থেকে যান গড উইন সুইফট নামক এক চাচার কাছে । চাচা গড উইন সুইফট অত্যন্ত যত্নসহকারে জোনাথন সুইফটকে লালন-পালন করেন। গড উইনের নিকটতম বন্ধু স্যার জন টেম্পলের পুত্র পরবর্তীকালে তাঁকে তার একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেছিল।

সুইফটের পরিবার বিভিন্ন সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে যুক্ত ছিল। গড উইন সুইফট কিশোর জোনাথনের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও তাঁকে বিখ্যাত দার্শনিক জর্জ বার্কলির তত্ত্বাবধানে কিলকেনি কলেজে ভর্তি করান। ১৬৮২ সালে ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন। গড উইনের পুত্র উইলাবি’র অর্থানুকূল্যে সেখান থেকে ১৬৮৬ সালে স্নাতকডিগ্রী লাভ করেন ও উইলিয়াম কনগ্রিভের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।

কিন্তু ১৬৮৮ সালে  আয়ারল্যান্ডে গৌরবময় বিপ্লব ছড়িয়ে পড়লে তিনি স্নাতকোত্তর শ্রেণীর পড়াশোনা শেষ না করেই ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তার মা তাকে ফার্নহ্যামের ম্যুর পার্কে বসবাসকারী ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিবিদ স্যার উইলিয়াম টেম্পলের সচিব ও ব্যক্তিগত সহকারীর চাকুরী লাভে সহায়তা করেন। নিয়োগ কর্তার বিশ্বাস ভাজন সুইফট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রায়শই ভূমিকা পালন করতেন। তিন বছর পর টেম্পল তাকে ইংল্যান্ডের তৃতীয় উইলিয়ামের সচিব রূপে প্রেরণের সুপারিশ করেন।

২৭ জানুয়ারি, ১৬৯৯ সালে টেম্পল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সংক্ষিপ্তকালের জন্য ইংল্যান্ডে অবস্থান করেন ও টেম্পলের স্মৃতিমূলক গ্রন্থের সম্পাদনায় মনোনিবেশ করেন। ধারণা করেছিলেন যে, এতে হয়তোবা ইংল্যান্ডে ভালো কোন পদ নিয়ে সম্মানজনকভাবে অবস্থান করতে পারবেন। কিন্তু, সুইফটের কার্যকলাপে টেম্পলের পরিবার ও বন্ধুরা শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে তিনি সরাসরি রাজা উইলিয়ামের কাছে চলে যান ও টেম্পলের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তার বিশ্বাস ছিল, রাজা তাকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পদে নিযুক্ত করবেন। কিন্ত তা করা হলো না। এতে ব্যর্থ হয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্নপদ গ্রহণ করেন। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে পৌঁছে তিনি দেখেন যে, পদটিতে ইতোমধ্যেই অন্য ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

১৭০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জোনাথন সুইফট ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজ থেকে ডক্টর অব ডিভিনিটি ডিগ্রী লাভ করেন। ঐ বছরের বসন্তে ইংল্যান্ড সফরে যান। সহচর হিসেবে ছিলেন বিশ বছর বয়সী ইস্থার জনসন, রেবেকা ডিংলে । সফর শেষে তারা অক্টোবরে আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসেন।

কিন্তু এই সফরের পর থেকে ইস্থার জনসন ও জোনাথ সুইফটের সাথে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও গুজব শুরু হয়।
সুইফট তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাধারা আপদকালীন সময়ে ইস্থার জনসনের সাথে পত্রাকারে মত বিনিময় করতেন। এর ফলেই পরবর্তীকালে পত্রগুচ্ছ নিয়ে প্রকাশ করেন ’দ্য জার্নাল টু স্টেলা’।

সুইফটের নিকট বন্ধু থমাস শেরিদানের মতে তারা অত্যন্ত গোপনে ১৭১৬ সালে বিয়ে করেছেন। কিন্তু গৃহ পরিচারিকা মিসেস ব্রেন্ট এবং সেই সফরের আরেক সঙ্গি রেবেকা ডিংলে তা গুজব ও ভিত্তিহীন হিসেবে দাবী করেন। ইংল্যান্ডে ভ্রমণকালীন সময়ে ১৭০৪ সালে প্রকাশ করেন এ টেল অব এ টাব ও দ্য ব্যাটল অব দ্য বুকস । যা অবিস্মরণীয় কীর্তিরূপে স্বীকৃত । এর ফলে তিনি লেখক রূপে মর্যাদা পেতে শুরু করেন।

(পরবর্তী অংশে জোনাথন সুইফট সম্পর্কে বাকি অংশ আলোচনা করা হবে।)

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।