• আজ ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহেশখালিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাদের বাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলি: জনমনে আতংক

৯:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৭ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার- মহেশখালি উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের সাপমারারডেইল এলাকায় তুচ্ছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাদের বাহিনীর নেতৃত্বে সকাল ৮টার সময় ব্যাপক গুলাগুলির ঘটনা ঘটে  গতকাল (১৭ই জানুয়ারী) মঙ্গলবার।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ১৩ই জানুয়ারী কাদের লবন মাঠের সীমানা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল সেই সময় জমির মালিক আব্দু রহমানের ছেলে রহিম কাদেরকে আইল দিয়ে না হাটার জন্য নিষেধ করে। কেননা আইলটি ছিল তখনো নরম এতে করে হাটলে সেটি ভেঙে যাওয়ার আশংকা ছিলো।

gggএক পর্যায়ে কাদের কথা না শুনলে প্রথমে দুজনের হাতাহাতি শুরু হয়। এতে করে রহিমের ঘরে জানাজানি হলে তার বোন সোহাগী ভাইকে রক্ষার জন্য দৌড়ে আসে। কাদের এক পর্যায়ে সোহাগীকেও মারধর করে বলে জানা যায়। ফলে রহিম পাড়ার লোকজনকে নিয়ে বোন কে বাচানোর জন্য কাদেরের উপর হামলা করেন। এতে করে কাদেরের মাথা ফেটে রক্ত হয় এবং গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে সে পালিয়ে গেলেও। পরে বাসা থেকে এসে গোলাগুলি করেন। এলাকাবাসী আবারো এগিয়ে আসলে কাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

এদিকে সোহাগীর উপর নির্যাতনের কারণে তার চাচা বাদী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ প্রদান করেন। চেয়ারম্যান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অভিযোগ গ্রহন করে এবং উভয় পক্ষকে গত ১৩ জানুয়ারী উভয় পক্ষকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করলেও কাদের বিচার না মেনে থানায় গিয়ে অভিযোগ গ্রহন বলে জানা যায়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাড়ি থেকে এস আই শাওন দত্তের নেতৃত্বে তদন্ত করে তার একটি রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্টে যেটুকু জানা যায়। কাদের আহত হয়েছে এটি যেমন সত্য আবার কাদের সেইদিন গুলি করেছেন সেটিও দ্রুব সত্য। এর পরেও কাদেরের বাবা বাদী হয়ে সোহাগী এবং রহিমের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামুলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে বলেও জানা যায়। তবে এ মামলা এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠেছে বলেও তোলপাড় রয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে নুরুল কাদের রানা প্রকাশ (বেহা পুয়া) একজন প্রতিষ্ঠিত  ডাকাত, ইয়াবা এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। এমন কি সে টাইগার এবং কালুসহ জোড়া খুনের আসামী। আর সেই কুখ্যাত কাদেরের পক্ষে মামলা হওয়ায় জনগন আতংকিত ও অবাক হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন হচ্ছে, আইনের আশ্রয় পাওয়ার পরেও কেন মহেশখালী থেকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে সেই পুরনো তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে শত শত এলাকাবাসীর সামনে করিম এবং সোহাগীকে তুলে আনার জন্য গতকাল আনুমানিক সকাল ৮ টার সময় প্রায় ৭/৮ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করে। ফলে নিরীহ গ্রামবাসী ডাকাত ভেবে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে আহত হন নারী পুরুষ অনেকে।

পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে, প্রথমেই প্রশাসনকে ব্যাপারটি জানিয়ে আইনের সহযোগিতা কামনা করিলে,এমনকি স্থানীয় জনগনকে সমবেত করে কাদের বাহিনীকে তাড়া করিলে সকলে দ্রুত পালিয়ে যায়। এর পর প্রায় ঘটনার ২/৩ ঘন্টা পর একদিকে কোস্ট গার্ড এবং তার সাথে মাতারবাড়ীর পুলিশ ফাড়ি থেকে এ এস আই সুজন মাহমুদের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর কাছে ঘটনার কারন জানতে চাইলে, সকলে কাদের এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে রহিম এবং সোহাগীকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ও গোলাগুলির তথ্য জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারমান কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একদল সন্ত্রাসী এলাকায় এসে গোলাগুলি করলে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে বলে জানান।

অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই সুজন মাহমুদ জানান, গোলাগুলির ঘটনা হচ্ছে এমন খবরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে পাঠানো হয়েছিলো তবে পুলিশ পৌঁছার আগেই মুখোশধারীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাসুত্রে জানতে পারে ৫/৭ জন লোক গোলাগুলি করে সাপমারারডেইলে। কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটালো বর্তমানে সে বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Loading...