• আজ ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পটিয়ায় কর্ণফুলীতে ভেজাল ঔষধে সয়লাভ বাজার: চায়ের দোকানেও পাওয়া যায় ঔষধ

২:৪৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৭ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

পটিয়া প্রতিনিধিঃ পটিয়া উপজেলা জুড়ে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষুধ বিপণন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উপজেলার ঔষুধ বাণিজ্যের এই বেপরোয়া পরিস্থিতির জন্য ঔষুধ প্রশাসন অধিদফতরের উদাসীনতা ও সিভিল সার্জনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকাই অনেকটা দায়ি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কঠোর মনিটরিং ও কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় ভেজাল ঔষুধ বিক্রেতারা বেপরোয়া। যেসব কোম্পানি নকল ও ভেজাল ঔষুধ তৈরির দায়ে অভিযুক্ত, সেগুলোই ঘুরে-ফিরে বার বার গ্রামে গ্রামে বাজার তৎপরতায় লিপ্ত। এসব ওষুধ ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক মানুষ সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন করে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পড়ছেন।

ভেজাল ওষুধ বিপণনে চট্রগ্রাম হাজারিগলি কেন্দ্রিক রয়েছে ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট, ফার্মেসিগুলোর সংগঠন ও বিভিন্ন সমিতির কোনো কোনো নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। উপজেলা জুড়ে সংঘবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে নকল-ভেজাল ঔষুধের বিশাল নেটওয়ার্ক।

unnamedএমনকি চট্রগ্রাম মেডিকেলের কিছু অসাধু কর্মচারী কতৃক সরকারি বিনামুল্যের ঔষুধ পাচার হচ্ছে গ্রামে, এমনকি কমিউনিটি মেডিকেল হলের ৩৬পদের বিনামূল্যের ঔষুধগুলো কর্নফুলীর অনেক ফার্মেসীতে পাওয়া যায়। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এই অপরাধীদের তৎপরতা কমে আসবে।

তবে বেশ কিছু দিন যাবত জেলার ঔষুধ বাজারে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ফার্মেসিগুলোতে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ঔষুধ। গতকাল কর্নফুলী সৈন্যেরটেকে শেফা ফার্মেসীতে পাওয়া যায় দেশের স্বনামখ্যাত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ এর জিমেক্স ৫০০মিঃগ্রাম ট্যাবলেট হুবহু নকল।

এসব ভেজাল ঔষুধ পটিয়ার অনেক বাজারের চায়ের দোকানেও পাওয়া যায়। ফার্মেসি গুলোতে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ঔষুধ। ভারতের নিষিদ্ধ ভেকসিন,সেরিডন,পেরেকটিন,ব্যথার বিভিন্ন ঔষুধ দেদারচে বিক্রি করছে।

অনেক সময় অভিযান চলা কালে এসব ফার্মেসি গুলো বন্ধ করে পালিয়ে যায় বলে পরবর্তী সময়ে আবার ভেজাল ও নকল বাণিজ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব ফার্মেসীতে ভেজাল ঔষুধ, ড্রাগ লাইন্সেস বিহীন ও ট্রেড লাইন্সেস না নিয়ে দীর্ঘদিন চলছে এসব অবৈধ ব্যবসা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ভেজাল ও নিম্নমানের ৩৫ ভাগ ঔষুধ তৈরি হয় ভারতে। এর বার্ষিক বাজারমূল্য চার হাজার কোটি রুপি বা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ ভাগ ভেজাল বা নিম্নমানের ঔষুধ তৈরি হয় নাইজেরিয়ায়। দেশটির মোট ঔষুধের ৪১ ভাগই ভেজাল বা নিম্নমানের। পাকিস্তানে তাদের মোট ঔষুধের ১৫ ভাগ ভেজাল বা নিম্নমানের, যার বাজার মূল্য প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা এক হাজার৬০০ কোটি টাকা। একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে ভেজাল বা নিম্নমানের ঔষুধের বার্ষিক বিক্রি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ।

সূত্রমতে, ঔষুধ খাতে দুর্নীতি, আইন প্রয়োগে শিথিলতা, শক্ত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অসামর্থ্য, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এবং অজ্ঞতা ভেজাল ঔষুধের বাজার বিস্তারের প্রধান কারণ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধের বিস্তৃতি এখন শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি। মফস্বলের বাজারজুড়ে শুধু যে কোন চায়ের দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ঔষধ। সেখানে কারও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগে নকল ও নিম্নমানের ওষুধ সহজেই ঠাঁই করে নিয়েছে। এসব ঔষুধ ব্যবহার করে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ আরোগ্য লাভের পরিবর্তে নতুন করে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পড়ছেন। বাড়তি টাকা খরচ করেও কাক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না তারা।

এ ছাড়া সরকারি তদারকির অভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে নিয়মিত। নিত্য-প্রয়োজনীয় এবং বিদেশি ঔষুধের দাম হরহামেশাই বাড়িয়ে দেয় কিছু সেন্টিকেট। এর ফলে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি এ ব্যাপারে পটিয়ার এক নাগরিক জানান, ফার্মেসী গুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেলেও নিয়মিত অভিযান চালানো হয়না বলে ভেজাল ব্যবসা অব্যাহত বলে জানান।

চট্রগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান জানান,ঔষুধ বিক্রয়ের নীতিমালা আছে। এ সকল নীতিমালা মেনেই ঔষুধ বিক্রি করতে হবে,যারা আইন লঙ্গন করেছে তাদের বিষয়ে অতিশীঘ্রেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading...