• আজ ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যান হয়ে ভোল পাল্টালো প্রেমিক, বিয়ের দাবি নিয়ে গেলে অবশেষে রক্তাক্ত হলো প্রেমিকা!

১১:৫০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত, চট্টগ্রাম, দেশের খবর, স্পট লাইট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর – বিয়ের দাবিতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত হলেন প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত বুধবার (২৫ জানুয়ারী) সকালে প্রেমিক চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমানের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।

বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রেমিকা নিলু ও তার পরিবার। অপরদিকে চেয়ারম্যানের লেলিয়ে দেয়া ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রেমিকা ও তারা পরিবার।

জানা যায়, দিঘলী ইউনিয়নের পশ্চিম দিঘলী গ্রামের পাঠান বাড়ির মৃত শামসুল হক খাঁনের পুত্র শেখ মজিবুর রহমানের সাথে একই ইউনিয়নের পূর্ব দিঘলী গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ২০০৩ সাল থেকে।

স্থানীয় সংবাদিকদের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়ায় নিলু জানায়, ”ভালোবাসার সূত্র ধরে দু’জনে অনেক কাছাকাছি আসলেও জীবনটাকে ঘুঁচিয়ে নিয়ে আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয় শেখ মজিব। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সম্মেলন এবং ইউপি নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বিয়ে করতে কালক্ষেপণের আশ্রয় নেয় সে।”

lover-chairman

নিলু আরও জানায়, ”ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে তার পরিবারের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাওলাত নেন শেখ মজিব। মূলত আমাদের টাকা দিয়েই নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে শেখ মজিব। এর পর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভের পর মজিব নিজের ভোল পাল্টে আমার সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিজেকে অনেক ক্ষমতাবান মনে করতে শুরু করেছে শেখ মজিব।”

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারী ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন নিলু। পরদিন (২৫ জানুয়ারী) বুধবার মা ও ভাইদের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার কথা বলে নিলুকে তার বাড়িতে ডেকে নেন চেয়ারম্যান মজিব।

ওইদিন সকালে নিলু শেখ মজিবের বাড়িতে গেলে তার ভাই ফারুক নিলুকে দেখেই গালমন্দ শুরু করেন। এ সময় শেখ মজিব বলেন, আমি তাকে খবর দিয়ে ডেকে আনিনি। নিলু প্রতিবাদ করলে শেখ মজিব তার বাড়ি ত্যাগ করার জন্য প্রেমিকা নিলুকে নির্দেশ দেয়। এতে নিলু বিয়ের দাবিতে শক্ত অবস্থান নিলে শেখ মজিব নিলুকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালান।

একপর্যায়ে শেখ মজিবের ভাই এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ফারুক তার হাতে থাকা রড দিয়ে নিলুর মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে নিলুকে সিএনজিযোগে স্থানীয় দিঘলী বাজারে একটি ফার্মেসীতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় তার স্বজনরা।

পরে নিলুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে নিলুকে নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে নিলু নোয়াখালীর ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিলুর স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে নিলুকে নষ্টা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করতে বিভিন্ন ধরণের কল্পকাহিনী সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চেয়ারম্যান শেখ মজিব ও তার অনুসারীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবরের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা ফোন করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষের সাথে একের পর এক প্রতারণা ও শেষ পর্যন্ত প্রেমিকা নিলুকে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুসে ওঠেছেন এলাকাবাসী।