অবশেষে চালু হচ্ছে ফোর-জি প্রযুক্তি!

সময়ের কণ্ঠস্বর – ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থ্রিজির বেতার তরঙ্গের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহক পর্যায়ে থ্রিজি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে থ্রিজি সেবা চালু করে।

ওয়ান/ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওয়াইম্যাক্স সেবার লাইসেন্স দেওয়ার পর থ্রিজি সেবা চালু নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েও থ্রিজি সেবা চালু সম্ভব হয়নি। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যান্য দেশের পরে বাংলাদেশে থ্রিজি সেবা চালু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব জটিলতা নিরসন করে ২০১৩ সালে থ্রিজির জন্য বেতার তরঙ্গ নিলাম করা হয়।

বাংলাদেশে থ্রিজি সেবা চালুর সময়েই বিশ্বের সব উন্নত দেশসহ প্রতিবেশী ভারতে ফোরজি সেবা চালু হয়। এর পর নানা প্রক্রিয়া, বাস্তবতা ও গ্রাহক চাহিদার নানা হিসাব-নিকাশে ফোরজি সেবা চালু নিয়েও নানা উদ্যোগ চলে। ২০১৬ সালের মধ্যে ফোরজি চালুর ঘোষণা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বেতার তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ নীতি ছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটররা ফোরজি চালুতে আগ্রহী না হওয়ায় নিলাম অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায়।

4g

অবশেষে আগামী মাসেই মোবাইল ফোন অপারেটররা ফোরজি সেবার লাইসেন্স পাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মার্চের মধ্যেই লাইসেন্স দেওয়া হবে। তবে বেতার তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ নীতি ঘোষণা ও বেতার তরঙ্গের নিলাম পরে হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ফোরজির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ফোরজির ৭০০ মেগাহার্টজ, টুজির জন্য ১৮০০ মেগাহার্টজ ও থ্রিজির জন্য ২১০০ মেগাহার্টজে বেতার তরঙ্গের নিলাম একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনিরপেক্ষ নীতি নিলামের আগে কিংবা পরে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে বাস্তবতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, লাইসেন্স প্রদান ও বেতার তরঙ্গ নিলামের পর মোবাইল অপারেটরদের ফোরজি সেবা চালু করতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।