অবশেষে গ্রেফতার হলো ব্লগার রাজিব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী

সময়ের কণ্ঠস্বর- ব্লগার রাজিব হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রেজায়ানুল আজাদ রানাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজমের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

hand-cuff20151228100828-2যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত‌্যা করা হয় রাজীবকে। ব্লগে লেখালেখির কারণে জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির মুখে থাকা রাজীব হত‌্যার পর সন্দেহের তীর ছিল উগ্রপন্থিদের দিকে।

রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি মুফতী রাহমানী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের সাত ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। ওই বছরের ১৮ মার্চ তাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এই মামলার রায়ে দুজনকে মৃত‌্যুদণ্ড এবং অন‌্যদের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির আদেশ হয়। ওই দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানাও হয়।

অন‌্যদের মধ্যে মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়।

সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। মুফতি রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়।

রাজীব হত্যার পর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী, ব্লগার, লেখক-প্রকাশক মিলে আরও অনেক হত‌্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহর সম্পৃক্ততা পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এর মধ‌্যে রাজীব হত‌্যার রায়ই প্রথম হয়।