চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বর্ণালঙ্কারের জন্য খুন হওয়া দুই শিশু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী ফতেপুর মহল্লায় পরনের স্বর্নালঙ্কারের জন্য খুন হওয়া দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন মেঘলা (৭) ও মেহজাবিন আক্তার মালিহার (৬) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে নিহত দুই শিশুর পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

maliha

পরে তারা এই দাবীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রষাশক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে সংহতি জানায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তি। সকাল থেকেই কর্মসূচীতে যোগ দেয়ার জন্য নামোশংকরবাটি এলাকায় শত শত অংশ গ্রহনকারীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা ২ কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধন করে।

এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নিহত শিশু সুমাইয়ার মা কুলসুম বেগম, পিতা মিলন রানা, মালিহার পিতা আব্দুল মালেক, শিশু দুটি যে বিদ্যালয়ে পড়ত সেই ছোটমনি বিদ্যা নিকেতনের অধ্যক্ষ খাইরুল ইসলাম, ওই এলাকার পৌর কাউন্সিলর সিদ্দিকা সিরাজুম মুনিরা, এলাকাবাসী জুয়েল রানা প্রমূখ।

বক্তরা নৃশংসভাবে দুই শিশু হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জাানান। তারা দ্রুত নিষ্ঠুর এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী সকল অপরাধীদের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। বক্তরা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এ ব্যাপারে কোন রকম কালক্ষেপন বরদাশত করা হবে না। দায়ী কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকালে স্কুল থেকে বাড়ী ফিরে খেলতে বেরিয়ে নিঁখোজ হয় নামোশংকরবাটী ফতেপুরের পাশপাশি দুই বাড়ীর দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন মেঘলা ও মেহজাবিন আক্তার মালিহা। ১৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের প্রতিবেশী ভ্যান চালক ইয়াসিন আলীর প্রবাসী ছেলে মোঃ ইব্রাহীমের স্ত্রী লাকী আক্তারের (২২) ঘরের খাটের নীচ থেকে দুই শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত লাকী আক্তারসহ ৫ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে।

লাকী আক্তার শিশু দুটির গলা ও কানে থাকা ১২ আনা ওজনেরর সোনার গয়নার জন্য তাদের বঙ্খাটের ভিতরে ভরে খুন করেছে বলে ১৬৪ ধারায় আদালতে বিচারকের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ওই গয়নার ক্রেতা এলাকার স্বর্ণকার মিজানুর রহমান পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেও লাকী আক্তারের নিকট থেকে শিশু দুটির গয়না কেনার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। ভ্যান চালক ইয়াসিন আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তে এর সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর যত দ্রুত সম্ভব চার্জশীট দেয়া হবে।

এদিকে শিশু দুটি নিখোঁজের পর থেকেই শহরের ওই এলাকায় একাধারে ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীসহ সকলেই হতভম্ব হয়ে পড়েছেন মাত্র এতটুকু সোনার জন্য প্রতিবেশী দুই নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায়। তারা নিঁখোজের দিন থেকে টানা পাঁচদিন বিক্ষোভ করেছে। শহরে ও ওই এলাকায় পোষ্টারিং ও মাইকিং করা হয়েছে বিচারের দাবীতে ও বিভিন্ন কর্মসূচীতে যোগ দেয়ার জন্য। সুমাইয়ার পিতা বিদেশ থেকে ফেরার পর বৃহস্পতিবার দুই শিশুকে এলাকার গোরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে গেছেন নিহতের পিতা-মাতাকে সান্তণা দিতে ও ঘটনার নিন্দা জানাতে। এ ঘটনায় নিখোঁজের দিনই মেহজাবিন আক্তার মালিহার পিতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন যা পরে জোড়া হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়।