মাধবপুরে ছেলে কে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা, স্বামি ও শ্বাশুরি পলাতক

jjhj


হামিদুর রহমান,মাধবপুর থেকেঃ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামে শিশু ছেলে কে ফাঁস দিয়ে  হত্যা করে  মা আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামি ও শ্বাশুরি পলাতক রয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার দপুরে পুলিশ পিন্টুর ঘর থেকে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মিলি ও তার ছেলে শিশু  পথিকের লাশ উদ্ধার করে।  সোমবার সকালে মিলির দূর সম্পর্কের ঝা রিক্তা দেব তাদের ঘরে সামনে গিয়ে মিলি কে ডাকলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেই ঝুলন্ত অবস্থায় মা ছেলে কে দেখতে পেয়ে চমকে উঠে। তখন তার চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে ।

এ মৃত্যু নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন দেখা দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। । প্রায় ৩ বছর পূর্বে মৌলভীবাজার জেলার কাশিপুর গ্রামের মঞ্জুলাল দেবের মেয়ে মিলির সঙ্গে বিয়ে হয় ঘিলাতলী গ্রামের মৃত প্রিয় লাল দেবের ছেলে পিন্টু দেবের সঙ্গে। এর মধ্যে তার কূল জুড়ে এক ফুটফুটে ছেলে সন্তান পথিকের জন্মা হয়। বিয়ের পর থেকেই তার শ্বাশুরি পঞ্চমী দেবের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত।  মিলির বোন পাশ্ববর্তী দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাপ্পি দেব জানান, ঘটনার  খবর পেয়ে

দ্রুত এসে দেখি ঘরের ভিতর আমার বোন ও তার সন্তানের লাশ ঝুলছে। তার স্বামী ও শ্বশুড়ি এ সময়  বাড়িতে ছিল না। আমার বোন কে তার শ্বাশুরি মানসিক ভাবে নির্যাতন করত। অনেক বার আমাদের কাছে দুঃখের কথা বলেছে। কিন্তু আমরা দুই বোন আমাদের বাবা মা কে বিষয়টি জানাইনি। তার দুঃখ কষ্ট যে এত ভারি হবে তা বুজতে পারিনি। পাশ্ববর্তী বাড়ির মিলির দু সম্পর্কের ঝা রিক্তা দেব জানান, প্রতিদিন সকালে মিলি তার বাচ্চাকে আমার কাছে রেখে বিভিন্ন কাজ করত।পরে আমাদের সঙ্গে হাসি খুশি ভাবে সময় কাটাত।

ওইদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন তাদের কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিলাম না আর বাচ্চাকে আমার কাছে রেখে যায়নি তখন কৌতুহল বশত তাদের ঘরের গ্রিলে ধর ধাক্কা দিয়ে ডাকতে থাকি। তখনও কোন শব্দ না পেয়ে গ্রিল খুলে ভিতরে গিয়ে দেখি মিলি ও তার শিশু সন্তান পথিক ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে আমি হতবাক হয়ে যায়। পরে চিৎকার দিলে বাড়ির অন্যান্য লোকজন ছুটে আসে ।

এ সময় পিন্টু বাড়ির বাইরে ছিল। আর তার শ্বাশুরি গত কয়েকদিন যাবত তার মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিল। সোমবার সকালে তিনি খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে  আসেন। মিলি সহজ সরল মানুষ ছিল। মিলির স্বামি একটি টুবাকো কোম্পানিতে চাকরি করে। সে সুবাদে প্রতিদিন সকালে সে বাইরে চলে যায়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে পিন্টু বাড়িতে আসে । কিন্তু সরজমিনে গিয়ে পিন্টু ও তার মা পঞ্চমী দেব কে খোজে পাওয়া যায়নি। পুলিশও পিন্টু অনেক খোজাখুজি করে বের করতে পারেনি।

থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটন্থালে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ দুটি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। তবে মিলির স্বামী পিন্টু ও তার মা কে কোথাও খোজে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান আরিফ ঘটনাস্থলে  সাংবাদিকদের বলেন এ মৃত্যু রহস্যজনক । তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।