‘নিলামে উঠছে বিএনপি’র প্রধান কার্যালয়!’ নেপথ্যে যে রহস্য

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা

ঋন খেলাপির দায়ে খুব দ্রুতই নিলামে উঠতে যাচ্ছে বন্ধকে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তবে কার্যালয় নিলামে তোলার সম্ভাবনার বিষয়টিতে ‘সরকারের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দলের স্থায়ী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর প্রতারণার খেসারত গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

গনমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে একাধিক নেতা জানান, তিনি (চৌধুরী তানভীর) নিজের বাড়ির দলিলপত্র ব্যাংকে বন্ধক রেখে  ১৯৮০ সালের দিকে আরেকজনের সঙ্গে যৌথভাবে এসওডি ঋণ নিয়ে সেটি আর পরিশোধ করেননি। পরে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তিনি ব্যাংক থেকে গুলশানের বাড়ি ও কালিয়াকৈরের নিজ সম্পত্তির দলিলপত্র বের করে এনে বিএনপি কার্যালয়ের দলিল ইকুইটেবল মর্টগেজ হিসেবে জমা দেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাড়িসহ বিএনপি অফিস নিলামে তুলে অর্থ আদায়ের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে, যা বর্তমানে রায়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ঘটনা সুত্রে প্রকাশ ১৯৮০ সালে প্রাক্তন বিএনপি নেতা তানভীর সিদ্দিকী একটি ব্যাংক থেকে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ নেন | ব্যাংক বারংবার তাগাদা দেয়া স্বত্ত্বেও তিনি ঋণ শোধ করেননি ,এমনকি ব্যাংকের চিঠির জবাব পর্যন্ত দেননি !এরপর তানভীর সিদ্দিকী এবং তার এক বন্ধু মিলে ব্যাংকের চিঠির জবাব দেন এবং ব্যাংককে অনুরোধ করেন সিদ্দিকীর বাড়ির দলিল ফেরত দিয়ে বর্তমান বিএনপির অফিসকে মর্ডগেজ হিসেবে নেয়ার । ব্যাংক তাঁদের অনুরোধ রাখেন । কিন্তু এরপরেও তানভীর সিদ্দিকী ব্যাংকের ঋণ শোধ না করলে ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে আছে ।

জানা গেছে ,হাইকোর্ট থেকে মামলাটি দ্রুতই অর্থঋণ আদালতে আসতে যাচ্ছে । আর মামলাটি ফেরত আসার ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে রায় হতে পারে । এবং রায় যদি তানভীর সিদ্দিকী এবং বর্তমান বিএনপি অফিসের বিপক্ষে যায় তাহলেই অবধারিতভাবে নিলামে উঠবে বিএনপির বর্তমান প্রধান কার্যালয়।

সুত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে বিএনপির নামে বর্তমান বিএনপির কার্যালয়টি কিনে নেন। কিন্তু উনি সেসময় দলিল না করায় এরশাদ ক্ষমতায় এসে কার্যালয় থেকে বিএনপিকে উচ্ছেদ করে । পরে মামলা করে কার্যালয়টি ফিরে পায় বিএনপি । এবং দ্রুতই জিয়া ট্রাস্টের নামে কার্যালয়টি দলিল করে ।

ঘটনা সুত্রে ও ঢাকার চতুর্থ অর্থ ঋণ আদালতে করা মামলার সূত্রে জানা যায়, বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা, স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সদস্য এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ও তার বন্ধু এ এইচ খান ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ১৯৮১ সালের ২১ আগস্ট সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তারা ব্যাংকে একবারের জন্যেও যোগাযোগ করেননি। ব্যাংক থেকে অসংখ্য চিঠি দেওয়া হলেও এর কোনোটির উত্তর তারা দেননি।

১৯৮৮ সালের ৭ ডিসেম্বর এক নম্বর আসামি এ এইচ খান ব্যাংক বরাবর একটি চিঠি লিখে তার এসওডি ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত গুলশানের চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বাড়ির পরিবর্তে ২৮/১ নম্বর নয়াপল্টনের পাঁচতলা বাড়িসহ ৬.১৮ শতাংশ জমি সিকিউরিটি হিসেবে জমা রাখার আবেদন করেন, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালের ১৬ আগস্ট ওই সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে বন্ধক রাখা হয়।

প্রতি মাসে সোয়া ৩ লাখ টাকা করে এক বছরের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করার জন্য তারা চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু ঋণগ্রহীতারা তা পরিশোধ করেননি। বরং উচ্চ আদালতে দুবার রিট করে মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করান। সে পাওনা এখন প্রায় ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে বন্ধক রাখা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। সে নিয়মে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাসভবন এবং নয়াপল্টনের পাঁচতলা ভবনটি বিক্রি করে পাওনা আদায় করবে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে জানানো হয়, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী খেলাপি ঋণ উদ্ধারের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে বন্ধক রাখা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। সে নিয়মে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর গুলশানের বাসভবন এবং নয়াপল্টনের পাঁচতলা ভবনটি বিক্রি করে পাওনা আদায় করবে।

ব্যাংকের প্রধান গণসংযোগ কর্মকর্তা জিয়াউল করিম গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন , ‘অন্যান্য খেলাপি ঋণের মতোই এ ঋণটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেটা বিবেচ্য নয়। আইন সবার ক্ষেত্রে সমান। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ঋণটি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। অর্থ ঋণ আদালতের মামলা সাধারণত দুই বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু এ মামলাটির বয়স ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। এসব বিষয় আমাদের প্যানেল আইনজীবীরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন। ’

এদিকে, দলের ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দলিল’ বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় ভবনটি এখন নিলামে উঠতে পারে বলে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে, সে খবরে বিস্মিত হয়েছেন দলটির নেতারা। প্রায় ৩৫ বছরের আগে ভবনটির দলিলের বিনিময়ে যে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে,সে কথা অনেকেই  নাকি এখন পর্যন্ত জানেনা না  ।