চাটমোহরে একই দিনে স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূর আত্মহত্যা

6314


পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনার চাটমোহরে একই দিনে স্কুল ছাত্রী ও গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সকালে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাঁটাখালি গ্রামে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বর্ষা খাতুন (১২) নামে পঞ্চম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ও রেলবাজার অমৃতকুন্ডা গ্রামে দুই সন্তানের জননী কাকলী খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূ কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে।

স্কুলছাত্রী বর্ষা পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার গাড়ফা গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে ও কান্দিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। বর্ষা বেশ কিছুদিন যাবত কাঁটাখালি গ্রামে চাচা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। অপরজন অমৃতকুন্ডা গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের স্ত্রী ও রাজশাহীর হরিয়ান এলাকার বেগার হোসেনের মেয়ে।

বর্ষার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বর্ষাকে ডাকতে গেলে তার শোবার ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করলে ঘরের ডাবের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তবে কি কারণে বর্ষা আত্মহত্যা করেছে তা জানা সম্ভব হয় নি।

অপরদিকে অমৃতকুন্ডা গ্রামে কাকলী খাতুনের মৃত্যুর বিষয়ে এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন হল প্রতিবেশী জনৈক এক বিবাহিত যুবকের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পরে। এ নিয়ে সোমবার সকালে প্রতিবেশী জনৈক ওই যুবকের স্ত্রী  কাকলীর বাড়িতে এসে তাকে শাসিয়ে যায়। বিষয়টি প্রতিবেশী সহ বেশ কিছু মানুষের মাঝে জানা জানি হলে ক্ষোভে লজ্জায় ঘরে রাখা কীটনাষক পান করে ওই গৃহবধূ। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কাকলীর। খবর পেয়ে লাশ দু’টি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেলে পাঠায় থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দু’টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। স্কুল ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং কাকলী খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।