কালীগঞ্জে আবারও দুস্কৃতিকারীদের আঘাতে স্কুল শিক্ষক আহত

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

প্রধান শিক্ষকের পক্ষে কথা বলায় জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় খান্ডের চওড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইন্দ্রজিৎ অধিকারী নামের এক সহকারী প্রধান শিক্ষক বেদম পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন দুস্কৃতিকারীরা। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুলের পাশেই এ ঘটনাটি ঘটে। এলাকাবাসী আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

এর আগে শনিবারও ইন্দ্রজিৎ অধিকারীসহ একই প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুস্কৃতিকারীরা।

আহত স্বুল শিক্ষকের বাড়ী উপজেলাএ গোড়ল ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রামে। তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের ১৬ বছর যাবতকাল শিক্ষকতা করে আসছেন।

আহত শিক্ষক জানান, সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে চড়ে আমি স্কুলে আসছিলাম। স্কুল থেকে দেড়শ মিটার দূরে আসলে রোকন উজ্জামান, নয়ন ইসলাম ও কাজল ইসলাম রাস্তার উপর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তারা চীৎকার করে বলে বেটা হেড মাস্টারের পক্ষ নিয়েছিস, তোকে হেড মাস্টারের পক্ষ নেয়ার সাধ মিটে দিবো। এই কথা বলে লাঠি দিয়ে আমাকে বেদম পেটাতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, তারা একাধিকবার আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল কিন্তু ভাগ্যিস হেলমেড থাকায় মাথা রক্ষা পেয়েছে কিন্তু তারা আমার দুই হাতে, দুই পায়ে ও পিঠে বেদম পিটিয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানা ঐ শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ অধিকারী।

এর আগেও গত শনিবার বিকালে দুস্কৃতিকারীরা স্কুলের সামনেই প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, সহকারী প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক মুকুল চন্দ্র রায়কে বেদম পিটিয়ে আহত করে।
ঐ ঘটনায় শনিবার রাতেই প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় বাচ্চা মিয়া খলিফা, তোফাজ্জল হোসেন, গোলজার হোসেন, রোকন উজ্জামান সহ ৬/৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন।

ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, হামলাকারী দীর্ঘদিন থেকে তাদের পছন্দমতো ব্যক্তি দিয়ে স্কুল ম্যানেজিয় কমিটি (এসএমসি) গঠনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলো। আমি তাদের কথা না শুনিনি। এ কারনেই তারা প্রতিশোধ নিতে আমাকে ও স্কুলের অন্যন্য শিক্ষকদের উপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, হামলাকারীদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করতেই শনিবার দুই শিক্ষক আহত হন। তাদেরই একজন ইন্দ্রজিৎ অধিকারীকে আজো মারপিট করে আহত করে ঐ চক্রটি।

ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তুমুলক শাস্তির দাবীতে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে আমরা স্কুল প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ র‌্যালি ও মানববন্ধন করব। দুস্কৃতিকারীরা গ্রেফতার না হওয়া পযর্ন্ত, স্কুলে কোন পাঠদান দিতে দিবে না বলে তারা জানায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, হামলাকারীদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আট বছর আগে তাদেরকে বিএনপি’র মিছিল ও সভায় দেখা যেতো। এরপরে পাঁচ বছর আগে তাদের দেখা যেতো সরকারী দলীয় আ’লীগের মিছিল ও সভায় কিন্তু গত এক বছর ধরে তাদের জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর মিটিং মিছিলে দেখা যাচ্ছে বলে তারা বলেন।

হামলাকারীদের প্রধান রোকন উজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: আহসান হাবীব বলেন, স্কুল শিক্ষক ইন্দ্রজিতের দুই হাতে, পায়ে ও পিঠে আগাত করায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তিনি এখন আশংকামুক্ত, তার নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল কিন্তু হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। শিক্ষক পেটানোর সাথে জড়িত হামলাকারীদের খুব দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ঐ ওসি।