মাদকের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি! বেরিয়ে আসছে আলোচিত বাবুল হত্যাকান্ডের নেপথ্য রহস্য

স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের কণ্ঠস্বর-

গত বছর মিরপুরে পুলিশের দেওয়া আগুনে নিহত চা-দোকানির অন্তরালে মাদক ব্যবসায়ী নিহত বাবুল মাতবর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তারই নিকটাত্মীয়  (শালিকা)  শামসুন্নাহার বুচির বিতর্কিত বক্তব্যটি সময়ের কণ্ঠস্বর সহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সাংবাদিক কল্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটির যুগ্ম- সম্পাদক ও সময়ের কণ্ঠস্বরের স্টাফ রিপোর্টার রাজু আহমেদকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।শামসুন্নাহার বুচি  স্থানীয়দের কাছে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

এ ঘটনায় শাহ্-আলী থানার জিডি নং- ৭৯৭।
জিডি সূত্রে জানা গেছে গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজু আহমেদ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শাহ্-আলী থানাধীন প্রিয়াংকা হাউজিং- এ গেলে চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান মাহবুব ওরফে গোল্ডেন মাহবুব, হাবিব সহ ৫-৭ জন যুবক তার গতিরোধ করে। হুমকি দিয়ে বলতে থাকে তুই আমাদের এবং আমাদের বুচি আপার নামে পত্রিকায় লিখেছিস কেন? আমরা ছিনতাইকারী হই আর মাদক ব্যবসায়ী হই তাতে তোর কি? শামসুন্নাহার বুচি আপা আমাদের নেত্রী। তিনি আমাদের দেখে-শুনে রাখেন। ভবিষ্যতে বুচি আপার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করলে প্রয়োজনে আমরা তোকে খুনও করতে পারি।

মূলত মাদক ব্যবসা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরেই গত বছর ডি. এম. পির মিরপুরের শাহ্ আলী থানাধীন, গুদারাঘাট এলাকায় পুলিশের দেওয়া আগুনে চা- দোকানীর অন্তরালে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত বাবুল হত্যা মামলা প্রসঙ্গে জনসম্মুখে বিস্ফরক বক্তব্যের মাধ্যমে আকস্মিক মুখ খুলে রহস্যের জন্ম দিয়েছেন তারই নিকট আত্মীয় (শালিকা) কথিত স্থানীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামসুন্নাহার বুচি।

গত ৯ই ফেব্রুয়ারি বৃহসপতিবার শাহ-আলী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনের নতৃত্বে রয়েল সিটি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশের একটি আভিযানিক দল। জানতে পেরে সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদক রাজু আহমেদ শাহ্ আলী থানাধীন বেড়িবাঁধের রয়েল সিটি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে যান। পরদিন তাকে একা ও সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই স্থানীয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান ও মাদক ব্যবসায়ী মাহবুব ওরফে গোল্ডেন মাহবুব তার দলবল নিয়ে আতর্কিত এই প্রতিবেদকের উপর হামলা চালায়। লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে এসে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি জানালে পরদিন একাধিক গণমাধ্যম কর্মী ঘটনার সত্যতা জানতে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের একপর্যায়ে বিষ্ফোরক এই বক্তব্য প্রদান করেন শামসুন্নাহার বুচি।

বক্তব্যে তিনি বলেন , কিছুদিন আগে বাবুল মারা গেছেন এই মাদকের জন্য। আমি সেই বাবুলের শালি। আমি প্রত্যেকটা শুনানিতে স্বাক্ষী দিছি। আর সেই সত্য কথা বলতে পারি নাই। কারন আমার তিনটা ছেলেরে রাস্তায় হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কি পারত তার প্রটেকশন দিতে? তাই আপনি ইচ্ছায় সইরা গেছি।

তার আকস্মিক এই বিস্ফোরক বক্তব্যে মর্মান্তিক ও ব্যাপক আলোচিত ঘটনাটি প্রসঙ্গে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলেও। কেন তিনি আদালতে সত্য কথা বলতে পারেন নি। যদি আদালতে তিনি মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে থাকেন; তাহলে প্রকৃত সত্য কি ? কারা তার ছেলেদেরকে রাস্তায় হুমকি দিয়েছিল? তাহলে কি পুলিশ নির্দোশ ছিল ? বাবুল নিহত হওয়ার পর তার নিয়ন্ত্রনাধীন বিশাল মাদক ব্যবসা এই বুচিই বর্তমানে তার লোকবল দিয়ে নিয়ন্ত্রন করে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

reporter-somoyer-konthosor

উল্লেখ্য গত বছর পুলিশের দেওয়া আগুনে চা দোকানী বাবুল নিহত হয়েছিল বলে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রচার করলে বিশ্ব ব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সঙ্গত কারনে সমস্ত দোষ গিয়ে পড়েছিল পুলিশের কাঁধে। এ ঘটনায় নিহত বাবুলের মেয়ে রোকসানা বাদী হয়ে শাহ্ আলী থানায় মাদক ব্যবসায়ী পারুল, পুলিশের কথিত সোর্স আইয়ূব আলী ও দেলোয়ারকে আসামী করে মামলা করেন। শাহ্ আলী থানার মামলা নং- ০৫। তারিখঃ ০৪/০২/২০১৬ ইং। এ ঘটনায় শাহ্ আলী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম শাহীন মন্ডল , এস আই মমিনুর রহমান খান, এস আই নিয়াজ উদ্দীন নিয়াজ, এ এস আই দেবেন্দ্র ও কনস্টেবল জসিম পুলিশের বিভাগীয় মামলায় জড়িয়ে প্রত্যাহারও হয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক কল্যান কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন , দেশব্যাপী সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংবাদিক রাজু আহমেদ সততা, নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও সাহসীকতার সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন সম্মানের সাথে সাংবাদিকতা করে আসছেন। রাজু আহমেদের উপর সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত হামলা ও হুমকির গভীর নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তাছাড়া বাবুল চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী ছিল তা সবাই জানে। বহুবার মাদকসহ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করে। উল্লেখিত এলাকাটি একটি দুর্গম এলাকা বলে মাদক ব্যবসায়ীগণ নির্বিঘেœ এ অঞ্চলে মাদক আমদানিসহ ব্যবসা করে আসছে।

পুলিশ এই চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার জন্যে ব্যাপক তৎপরও রয়েছে। নির্মম এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। সর্বসাধারণের প্রাপ্ত সেবা নিশ্চিত করাই পুলিশের ধর্ম। তাছাড়া পুলিশের সাথে নিহত বাবুলের কোন শত্রুতাও ছিল না। সুতরাং পুলিশ এরকম জঘণ্য ঘটনা ঘটাতে পারে না বলেই আমি বিশ্বাস করি। বাবুল হত্যা মামলাটির পুনঃতদন্ত হলে ঘটনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন নির্মম সত্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও আমি বিশ্বাস করি।

এ প্রসঙ্গে শাহ্-আলী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে  বলেন, ঘনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সে যেই হোক না কেন; কোন ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

ভিডিও প্রতিবেদন