শোক আর গৌরবের অমর একুশে আজ

রবিউল ইসলাম (রবি), স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- একুশ আমার অধিকার আদায়ের সাধনা, একুশ আমার প্রতিবাদী হওয়ার ঘোষণা। একুশ আমার মায়ের ভাষা রক্ষার সূচনা, একুশ আমার অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার উন্মাদনা।

একুশের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে। দুর্জয় সাহস জুগিয়েছে। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’- চিরকালের এ স্লোগান আজও সমহিমায় ভাস্বর। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, যাবতীয় গোঁড়ামি আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার।

9d60fe55588193bafaf8ed1942634d59_xlargeঅমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতির জীবনে অবিস্মরণীয় ও চিরভাস্বর দিন আজ।

আজ থেকে ৬৫ বছর আগে এ দিনে ঢাকার রাজপথ হয়ে উঠেছিল উত্তাল। পাকিস্তানি শাসকদের হুমকি-ধমকি, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ভাষার দাবিতে রাজপথে নামে ছাত্র-শিক্ষক, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী অসংখ্য মানুষ। বসন্তের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে হাজারো কণ্ঠে আওয়াজ ওঠে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। এ সময় আকস্মিক জনতার মিছিলে গর্জে ওঠে পুলিশের গুলি।

সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হলো মাটি। মানব ইতিহাসে সংযোজিত হলো এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। সে অমর একুশের পথ ধরেই উন্মেষ ঘটে বাঙালির স্বাধিকার চেতনার। আর একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ভাষার জন্য বাঙালির এই আত্মদানের দিনটিকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। আজ সেই গৌরবময় দিন। বাঙালির সঙ্গে গোটা বিশ্ববাসী এ দিনটিকে পালন করবে মাতৃভাষার প্রতি অগভীর ভালোবাসা বুকে নিয়ে।

বরাবরের মতোই এবারও মধ্যরাতের অনেক আগ থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা শুরু হয় সর্বস্তরের বাঙালির। হাতে ফুল, হৃদয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’_ অমর একুশের এই গান তুলে মানুষের সম্মিলিত স্রোত মেশে এক পথে। শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য শেষে অনেকেই যান আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করতে।

এদিকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

আজ সরকারি ছুটির দিন। দেশের সর্বত্রই আজ প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদদের স্মৃতির প্রতি। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই শহীদ মিনারে শুরু হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। এর মধ্যেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

আজ শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে সর্বত্র ওড়ানো হবে শোকের কালো পতাকা। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের সরকারী-বেসরকারী টেলিভিশন, রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে।

সকল জেলা ও উপজেলা সদরে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে উদযাপিত হবে। বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।