যৌতুকের বলি: মেয়ের সাথে কথা বলায় গৃহবধূকে নির্যাতন!

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পাওয়ায়, নিজের মেয়ের সাথে কথা বলার অপরাধে অর্মি রাবিয়া বানি (৩০) নামে এক গৃহবধুকে বেধড়ক পিটিয়েছেন স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এসময় বোনকে বাঁচাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ভাই আকিদ হোসেন (১৬) এগিয়ে এলে তাকে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আহত ঐ পরীক্ষার্থী বেডে শুয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর আগে রোববার দুপুরে নির্যাতিতা গৃহবধূ তার ছোট ভাইসহ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।

আহত অর্মি রাবিয়া বানি ও আকিদ হোসেন পাটগ্রাম পৌরসভার রহমানপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত নায়েক আহাদ হোসেনের সন্তান।

প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, অর্মি রাবিয়া বানি প্রায় ১০ বছর আগে ভালোবাসে বিয়ে করেন প্রতিবেশী মফিজুল হকের ছেলে রিগান মিয়াকে (৩৫)। ঘর সংসার ভালো চললেও পরে যৌতুক দাবি করে রিগান। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে আহাদ হোসেন তার মেয়ে ও জামাইকে একটি বাড়ি করে দেন। কিন্তু কিছুদিন থেকে ঐ বাড়ি নিজ নামে লিখে চায় যৌতুক লোভী রিগান মিয়া। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। কয়েকবার সালিশ বৈঠকে তা সমাধান করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ আগে রিগান স্ত্রীকে রেখে তার ৭ বছরের একমাত্র মেয়ে শিশু রাহি আক্তারকে নিয়ে অদূরের পিতৃলয়ে চলে যায়।

এই অবস্থায় রোববার সকালে কেজি ওয়ানে পড়ুয়া শিশু রাহি আক্তার স্কুলে যাওয়ার পথে মায়ের সাথে কথা বলে। এমনটি দেখে রাহির বাবা রিগান ছুটে এসে তার স্ত্রী রাবিয়া বানিকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। শুধু তাই নয় রিগানের সাথে তার ভাইয়েরা ছুটে এসে ঐ গৃহবধুকে মারধর করে।

joutuk

এসময় নির্যাতিতা গৃহবধূর ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী আকিদ হোসেন বোনকে বাচাতে এগিয়ে এসে বাঁধা দিলে তাকেও পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দেয় তারা। পরে স্থানীয়রা আহত গৃহবধূ ও তার ছোট ভাইকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ অর্মি রাবিয়া বানি বলেন, ভালবেসে বিয়ে করেও কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার স্বামী আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করছে। পরে আমরা বাবা আমাকে বাড়ি তৈরী করে দিলে, সেটাও সে লিখে চায়। কিন্তু যে স্বামী সন্তানের সাথে কথা বলার অপরাধে স্ত্রী পেটায়, তার মতো খারাপ লোক আর কে হতে পারে? বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন ঐ গৃহবধূ।

কিছুক্ষণ পর কান্না থামিয়ে আবার বলেন, আমাকে বাঁচাতে এসে ওরা আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ভাইয়েরও মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। তাই ওদের ( স্বামী ও শশুড়বাড়ির লোকজন) বিচারের জন্য আমি পাটগ্রাম থানায় অভিযোগ করেছি।

গৃহবধূর স্বামী রিগান বলেন, ‘আমি কখনো যৌতুক চাইনি। এছাড়াও তার শ্যালকের মাথা কে ফাঁটিয়েছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দু‘পক্ষের অভিযোগের পরিপেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি শংকর কর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।