তাড়াশে সংযোগ ও খুঁটি বানিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের আওতায় সদর ইউনিয়নের ৪ শতাধিক গ্রাহকের নিকট থেকে ঠিকাদার ও দালালরা সংযোগ এবং খুঁটি বানিজ্যে করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

tarass

এ সকল নতুন সংযোগ ও খুঁটি বানিজ্যে জরিয়েছেন প্রভাবশালী দালাল, ইলেট্রিশিয়ান এবং অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর নতুন সংযোগ ও খুটি বানিজ্যে এখন ওপেন সিক্রেট। যা বলা চলে একদম উৎকোচ আদায় এখন উম্মুক্ত বিষয়। এ গুলো দেখার কেউ নেই কারন জরিত এর সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরজমিনে সোমবার বোয়ালিয়া গ্রামের গিয়ে জানা যায়, উপজেলার তাড়াশ সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত তয়জাল হোসেন এর ছেলে দালাল রফিকুল ইসলাম উল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঠিকাদার মিলে বোয়ালিয়া পুর্ব পাড়া এবং হিন্দু পাড়ায় বৈদুতিক খুটি স্থাপন করছেন। আর তারা মিলে প্রায় ৪ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করছেন।

এ সময় দালাল রফিকুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ২০ বছর ধরে এ গ্রামে বিদ্যুৎ রয়েছে। সে সময়ে প্রায় ৪ শতাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ নিতে পারনি। তাই এখন আমি সদস্য প্রতি আগে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা করে নিয়েছিলাম কাজের জন্য। এখন খুটি পোতা হচ্ছে তাই তাদের ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কারন খুটি পাশ করতে অফিসের অনেকেই টাকা দিতে হয়েছে।

তাছাড়া ঠিকাদারের লোকজন খুটি পোতার কাজে রয়েছে তাদের পেছনে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়। এগুলো খরচ তো বাড়ি থেকে আনবো না। অন্য প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কেন ? একই গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে প্রতারক তোতা মিয়া গ্রামের উত্তর পাড়ার আব্দুস সালাম, মোবারক হোসেন, গফুর, রফিকুল, মুসাসহ প্রায় ৫০ জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৭ হাজার করে টাকা নিয়েছে। তাদেরকে সে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা ছিল কিন্তু পারেনি। সেগুলো আমার আবার করতে হচ্ছে।

অপর তোফাজ্জল হোসেন নামের গ্রাম মাতব্বর জানান, আমরা টাকা নিচ্ছি কিন্তু কাজ করছি। এ জন্য কারো সয্য হচ্ছেনা তাই আপনাদের নিকট অভিযোগ করে। টাকা শুধু নিজে নেই না, পরিচালক, ইলেট্রিশিয়ান ও উল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দিতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ কামরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, লাইন নির্মানের বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। ওই দেখে উল্লাপাড়া অফিস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, লাইন নির্মানে কোন ধরনের টাকা নেয়ার বিধান নেই। যদি কোন ঠিকাদার বা দালাল টাকা নেয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।