ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে ‘বিতর্কের মুখে’ পড়লেন খালেদা জিয়া

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতির জীবনে অবিস্মরণীয় ও চিরভাস্বর দিন ।

এ দিন মধ্যরাতে  ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে সর্বোচ্চ ধাপে উঠার অভিযোগে ব্যপক  বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের ‘পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ।

অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ জানান, খালেদা জিয়া শহীদ মিনারের মূল বেদীতে সর্বোচ্চ ধাপে উঠার মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের ‘পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে’।

image-65671-1487659693তিনি জানান, রীতি অনুযায়ী, খালি পায়ে দ্বিতীয় ধাপে দাঁড়িয়ে মূল বেদীতে পুষ্পাঞ্জলি রেখে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান সবাই। রোভার স্কাউট সদস্যরা সেসব পুষ্প স্তবক মূল বেদীতে এনে সাজিয়ে রাখতে থাকেন।

এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১ টার পরেই  গুলশানের কার্যালয় থেকে রওনা হয়ে হাই কোর্ট মোড় ও দোয়েল চত্বর সড়ক দিয়ে রাত  দেড়টার দিকে  খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর  শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব‌্যক্তিদের ফুল দেওয়ার পর বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের জন‌্য শহীদ মিনার তখন খুলে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ‌্যেই মিছিলগুলো কিছুক্ষণের থামিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ফুল দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটের সদস্যররা মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাদের শহীদ মিনারের মূল বেদীর কাছে নিয়ে যান। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা শহীদ মিনারের মূল বেদীতে উঠে পড়েন। এ সময় কিছুটা হুড়োহুড়িও হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানও এ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন। ফুল দিয়ে দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে বের হয়ে যান তারা।

এ এস এম মাকসুদ বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন এবং যারা নিজেদের জাতীয় নেতা বলে দাবি করে, তাদের কাছ থেকে শহীদ মিনারের অবমাননা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শহীদ মিনারে এসে কীভাবে কোথায় ফুল দিতে হবে তা তাদের জেনে আসা উচিত।

গত বছর শহীদ মিনারে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অবশ্য বিএনপি ওই ঘটনার জন্য পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের দায়ী করে।

তবে শহীদ মিনারের এবারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । আর মূল বেদীতে ওঠা নিয়ে ‘শাসকদল’ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

khaleda 21 febতিনি বলেন, যেখানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করার স্থান, সেখানেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আমাদের নেত্রী যখন সেখানে যান, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদস্যরা ছিলেন, আমরা যেখানে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, সেখানে গণমাধ্যমসহ সকলেই ছিলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা স্কাউটরাও ছিলেন।

রিজভী বলেন, “এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ছুতা পাচ্ছে না, তাই এখন তারা বিএনপির বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। ”

উল্লেখ্য, ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় চেয়ারপার্সনের সঙ্গে ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মাহবুবুর রহমান, জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়াও ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ শাহজাহান, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শাহজাহান ওমর, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, আসদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, আজিজুল বারী হেলাল, জেবা খান, আবদুস সাত্তার, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন আহমেদ দিদার।

উপস্থিত ছিলেন  ছিলেন সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের জুয়েল, সুলতানা আহমেদ, রাজীব আহসান, আকরাম হাসান প্রমুখ।

Save

Save