পাট কিনে লোকসানে ব্যবসায়ীরা

শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধিঃ

সোনালী আঁশ নামে খ্যাত পাট, এক সময় বাংলাদেশের প্রথম সারির অর্থকরি ফসল হিসেবে ছিল পাট। মাঝে দীর্ঘ দিন খুব একটা চোখে পরেনি এ ফসলের আবাদ। বর্তমান সরকার চাল, ডাল, চিনি, সার, ফসলের বীজসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করণের জন্য পাটের তৈরী ব্যাগ ব্যবহারের ওপর বাদ্যকতা আরোপ করায় পাট চাষের ওপর গুরুত্ব দেয় কৃষকরা। গত বছর পাটের বাজার দর পাওয়ায় এবছর আরো বেশি জমিতে আবাদ করেছে পাট। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী ময়মনসিংহ নান্দাইলে এবছর দেশী-১০৭০, তুষা-১৮০, মেস্তা-৬০ ও কেনাফ-৬৫০ মোট-১৯৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছে।

কয়েকজন পাট ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানাযায়, গত বছর পাট চড়া দামে কিনলেও লাভ হয়েছে। কিন্তু এবছর কোন আশঙ্কা পাওয়া যাচ্ছে না। দিন দিন গুনতে হচ্ছে লোকসান। গত বছরের শুরুতে দর কম ছিল পরে বাজার উঠে ১৯শত থেকে ২১শত টাকা পর্যন্ত। এবছর শুরুতে বাজার দর-১৬শত থেকে ১৭শত টাকা থাকলেও বর্তমান বাজার ১২শত থেকে সারে ১২শত টাকা দেশী পাট। বাজার দর নিচে নেমে আসায় ব্যবসায়ীরা অনেকেই হতাশ হয়ে পরেছেন। তাদের মধ্যে নান্দাইল উপজেলাধীন দেওয়ানগঞ্জ বাজারের পাট ব্যবসায়ী মোঃ আলীমুদ্দিন এক জন। দেওয়ানগঞ্জ বাজার নান্দাইল সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দুরে, নান্দাইল ও গফরগাঁও উপজেলার সীমান্ত এলাকা। পেশাগত কানেই সেখানে যাওয়া। মাঠে পাট রোদে দিয়ে প্রসেসিং করে লেবার দিয়ে নেওয়ার সময় যখন ছবি তুলি, তখন গোডাউন থেকে দৌড়ে এসে হাপিঁয়ে হাপিঁয়ে বলছে আলীমুদ্দিন ব্যপারী বাবা আপনে কি সাংবাদিক?। হ্যা বলার পর তিনি বলেন, বাবা ইবার পাট কিন্নেয়া মইরাই গেছি। চালান ফুনজি সব আটকা। দারের টেকাও দিতে পারছি না। বাজার বারনের আশায় থাককেয়া এই বছর দিন দিন লচ গনতাছি। আপনেরা প্রত্রিকায় লেখলে সরকার হয়তো নজর দিতো পাটের দিকে। এভাবেই বললেন পাট ব্যবসায়ী আলীমুদ্দিন বেপারী। তিনি প্রায় এক হাজার মণ পাট কিনেছেন। বর্তমান বাজার দর বিক্রি করলে তিন থেকে চারশত টাকা লুকসান দিতে হবে। তাই পাট রোদে দিয়ে প্রসেসিং করে গোডাউনে রাখছে যাতে নষ্ট না হয়।

pat
পাটের দাম কম থাকায় নান্দাইলের দেওয়ানগঞ্জ বাজারের আলীমুদ্দিন বেপারী মাঠে পাট রোদে দিয়ে প্রসেসিং করে লেবার দিয়ে গোডাউনে নিচ্ছে।

পাটের দরের বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল বাজার পাট ব্যবসায়ী লিটন সাহা বলেন, এ বছর বিদেশী ভায়াররা পাট কিনছে না তাই পাটের দাম কম। নান্দাইল বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৫ হাজার মণ পাট ষ্টক আছে। এর মধ্যে দেশী-১৫শত থেকে ১৬শত টাকা, তুষা- ১৭শত টাকা, মেস্তা- সাড়ে ১৬শত টাকা করে ক্রয় করা। বর্তমান বাজার দর দেশী- ১২শত থেকে সাড়ে ১২শত টাকা, তুষা- ১৫শত টাকা। মেস্তা- ১৪শত টাকা।

পাট ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, এবছর বাজার নিয়ন্ত্রন করছে সরকার। প্রাইভেট কোন কোম্পানী পাট কিনছে না তাই বাজার কম।