সৌদি থেকে উদ্ধার হওয়া নবীগঞ্জের কল্পনা দেশে এসেছেন

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: সৌদি আরবে যৌনদাসত্বের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার হওয়া নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামের সেই আলোচিত কল্পনা অবশেষে বাড়িতে এসেছেন।

kolpona

গত রাত ১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। সেখানে আগে থেকেই তান জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তার পিতা এবাদ আলী ও বোন আয়েশা।

গত ২০ ফেরুয়ারী সোমবার মেয়েটিকে সৌদি আরবের একটি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সোমবার মেয়েটিকে সৌদি আরবের একটি বিমানে বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়। পরে ভোর রাতে কল্পনা স্বজনদের দেখা পান।

কল্পনা দেশের মাটিতে পা রেখেই ফোন করেন হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীকে। বলেন, ‘আপা আমি দেশে আইছি।’ এমপির কাছে কৃতজ্ঞতা জানান কল্পনা বিবি।

এ ব্যাপারে এমপি কেয়া চৌধুরী সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় কল্পনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হলো কল্পনার সঙ্গে আরো যারা সৌদি আরবে পাচারকারীদের কবলে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনা।

উল্লেখ্য, গত ৬ই ডিসেম্বর নবীগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়নের গায়স্থ গ্রামের কল্পনা বিবি দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে পাচারকারীরা তাকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে। সেখানে তার সঙ্গে আরো ১৯ থেকে ২০ জন নারী ছিল। বিষয়টি এমপি কেয়া চৌধুরী জানতে পেরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

এরপর সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ১৬ই ফেব্রুয়ারি কল্পনাকে সৌদি আরবের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে বাংলাদেশে পাঠানো হয় কল্পনা বিবিকে। এদিকে সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শাহ আলম কল্পনাকে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের কাছ থেকে কল্পনাসহ আরো যাদের পাচার করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেন।

সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শাহ আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান রইলো আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ভালোভাবে বিস্তারিত না জেনে দালালদের সঙ্গে কোনো লেনদেন কিংবা বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।