‘ভূমধ্যসাগরে মার্কিন নৌ-বহরে আঘাত হানতে পারে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র’

4bk6578d8a95a38hdg_800C450


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইহুদিবাদী ইসরাইলের এক সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ’র  শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের রণতরী, (হাইফা শহরের) গ্যাস ও তেল-স্থাপনা এবং দিমোনা পরমাণু-কেন্দ্র ছাড়াও ভূমধ্যসাগরের মার্কিন ষষ্ঠ নৌ-বহরের ওপরও আঘাত হানতে সক্ষম।

ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষক রোয়েন বার্গম্যানের এই হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে ইহুদিবাদী দৈনিক ‘ইয়োদইয়োত অহারোনোত’।

বার্গম্যান বলেছেন, হিজবুল্লাহর ‘ইয়াখুন্ট’ নামের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেবল ভূমধ্যসাগরের ইসরাইলি স্থাপনাগুলোর জন্যই হুমকি নয়, মার্কিন ষষ্ঠ নৌবহরও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লার আওতায় রয়েছে। দৈনিকটির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিউনিখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা-সংলাপেও হিজবুল্লাহর এই ক্ষেপণাস্ত্রসহ কৌশলগত নানা অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, এইসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের সাগরগুলোতে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে। দৈনিকটি আরও লিখেছে, পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা  রিপোর্ট অনুযায়ী সিরিয়ায় ইসরাইলের বহু বিমান হামলা ও নানা পদক্ষেপ সত্ত্বে হিজবুল্লাহ গত ৫ বছরে কৌশলগত নানা অস্ত্র লেবাননে আনতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরাইলি দৈনিকটি আরও লিখেছে, রাশিয়ার নির্মিত ইয়াখুন্ট ক্ষেপণাস্ত্র ‘এস-থ্রি হান্ড্রেড’ ক্ষেপণাস্ত্রের সমতুল্য এবং ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটার। কোনও প্রতিরক্ষা সিস্টেমই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিতে বা ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম নয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হিজবুল্লাহর হুমকিগুলোকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর হুমকির মুখে ইসরাইল হাইফা শহরের রাসায়নিক গ্যাসের ডিপো ও স্থাপনাগুলোকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। হিজবুল্লাহ’র প্রধান এরপর এক নতুন হুমকিতে বলেছেন, এইসব স্থাপনা ইসরাইলের যেখানেই সরিয়ে নেয়া হোক না কেন হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে সেগুলোকে রক্ষা করতে পারবে না ইসরাইল। এ ছাড়াও তিনি ভবিষ্যতের যে কোনও সংঘাতে ইসরাইলের পরমাণু স্থাপনাকেও টার্গেট করা হবে বলে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  ইসরাইলি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের রাসায়নিক ও পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানলে লাখ লাখ ইসরাইলি হতাহত হবে।