কুড়িগ্রামে রোপা ধান ক্ষেত নিড়ানিতে পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা এগিয়ে

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের গ্রামীন জনপদে পুরুষ শ্রমিককের চেয়ে নারী শ্রমিকরা সব কাজে এগিয়ে আছে। যে কোন কাজে নারী শ্রমিকরা ফাঁকি দেয়ার প্রবনতা না থাকায় কর্মক্ষেত্রে তাদের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।

dhan cas

প্রতিজন নারী কর্মী এখন রোপা ধান ক্ষেত নিড়ানী চুক্তির ভিত্তিতে দিনে ২/৩শ টাকা আয় করছেন। এছাড়া গ্রামের গরীব নারী শ্রমিকরা কৃষি কাজ ছাড়াও চাতাল, রাইস মিল ইটভাটায় এবং দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টসে কাজ করছেন।

সরেজমিন নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন নারী শ্রমিক স্থানীয় গৃহস্ত শফি হাজীর জমিতে রোপাধান নিড়ানী করছেন। তাদের মধ্যে কথা হয় খোতেজা (৩৫) ও রাবেয়া (৩২) এর সাথে। তারা দুই জনেই জানান, প্রতিবিঘা জমি নিড়ানীর জন্য ১ হাজার টাকা চুক্তি করে কাজ করা হয়। আমরা ১৫ জনে সারা দিনে ৫/৬ বিঘা জমি নিড়ানী করি। তাতে প্রতিদিন দুইশ থেকে ৩‘শ টাকা আয় হয়।

তার আরো জানান, ১০ বছর আগে তারা বিধবা হন। তাদের তিনটা করে শিশু বাচ্চা আছে। কোন জমি জমা নেই। অন্যের বাড়ীতে ঝির কাজ করে কোন রকমে দিন পাড়ি দিতেন। গত দুই বছর যাবৎ তারা জমির ক্ষেতের কাজ করে ভাল ভাবেই সংসার চালাচ্ছেন। তারা ১৫ জন নারী শ্রমিক দল বেঁধে ক্ষেতের নিড়ানী কাজ চুক্তি নিয়ে করেন।

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক বাবর আলী, শামসুল হক ও তারাপদ চক্রবর্তি বলেন, পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে নারী শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি দেয় না। সে কারনে নারী শ্রমিক নিতে হলে তাদের আগাম টাকা দিতে হয়। এ এলাকার বেশি ভাগ নারী শ্রমিক এখন ইট ভাটায় কাজ করেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মসংস্থান কর্মসুচিতে উন্নয়নমুলক কাজে জড়িত আছেন।

পাটেশ্বরীর ২৫ জন নারী শ্রমিকের দলনেত্রী বা সর্দ্দার দিলজন বিবি বলেন, আমরা নিজেরাই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জন করে সংসার চালাই তাতে অসম্নানের কিছু নাই। ভিক্ষা করে তো খাই না। কে কি বলে বলুক, আমরা কাজ করে খাই।

কুড়িগ্রম জেলা মহিলা সংস্থা সুত্র জানায়, কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলা কয়েক হাজার নারী শ্রমিকের কাজ করে দিব্যি জিবিকা নির্বাহ করছেন। সমাজ এটা মেনে নিয়েছে।