জামালপুরে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক নামকরণ, বাদ পড়েছে গুরুত্বপূর্ণদের নাম

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি- জামালপুরে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে গৌরবউজ্জল ভুমিকার জন্য ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক নামকরনের ঘোষনা দিয়েছে পৌরসভা।

সোমবার জামালপুর পৌরসভার মেয়র মো: সাখাওয়াতুল আলম মনি এ ঘোষনা দেন। এ সময় গবেষনা কেন্দ্রের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম দুলাল, সদস্য সচিব ভাষা সৈনিক সন্তান আশরাফুজ্জামান স্বাধীন, সদস্য কবি আলী জহির, সুজনসহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

5 JAMALPURভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষনা কেন্দ্রের দাবীর প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় জামালপুর পৌরসভা। ১১ জন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরন করা হয়। সড়কের নামকরন ঘোষনার খবরে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায় ভাষা সৈনিক ও মুক্তি সংগ্রামীদের পরিবারে।

পৌরসভা সুত্র জানায়, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং জামালপুরের কৃর্তিমান ব্যক্তিদের বিভিন্ন সড়ক, চত্তর এবং স্থাপনার নামকরণ করা হবে।

১১ জন ভাষা ও মুক্তি সংগ্রামীর নামে সড়ক নামকরন ঘোষনা করায় গবেষনা কেন্দ্র এবং পৌরসভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুধিমহল বলেন, অলিগলি নয় গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলোর নামকরন করলে আরো ভালো লাগতো। প্রথম দফায় আসেনি ভাষা সৈনিক কল্যান চৌধুরী, আব্দুল ওয়াদুদ গেদা ও কায়েছ উদ্দিনসহ অনেকের নাম। যাদের নাম এসেছে এদের আগে তাদের নাম আসা উচিত ছিল। মৃত্যুর পরও ভাষা সৈনিক আব্দুল ওয়াদুদ গেদার কপালে জুটেছে অবজ্ঞা অবহেলা। ভাষা আন্দোলনে উজ্জল ভুমিকা থাকার পরও তাঁর নাম কেউ মনে করেনি। মনে রাখেনি এই ভাষা সৈনিকের অবদানের কথা। শহর ঘুরে চোঙ্গা ফুঁকিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সভা-সমাবেশে অংশ নিতে শহরবাসীকে আহবান জানাতো।

পাকিস্থান সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শহরের বিভিন্নস্থানে বিলি করতেন ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে লিফলেট। সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন স্বশরিরেও। বেঁচে থাকতেও লড়াই করেছেন দারিদ্রতার সাথে। জীবিকা নির্বাহ করেছেন পত্রিকার হকারি করে। মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায়। আব্দুল ওয়াদুদ গেদার পরিবার খেয়ে না খেয়ে কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। ওদের খবর কেউ রাখেনা। শহরের শাহাপুর গ্রামের ভাষা সৈনিক আব্দুল ওয়াদুদ গেদার নামে সড়ক নামকরন হয়নি হয়েছে সামছুল হকের নামে। এই আরেক ভাষা সৈনিকের নাম কয়েছ উদ্দিন। একজন সংগ্রামী মানুষ। এই সংগ্রামী মানুষটি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা আন্দোলন সংগ্রামে থেকেছে সন্মুখভাগে। বৃদ্ধ বয়সে এখনও রাজপথে সরব উপস্থিতি তাঁর। পাওয়া না পাওয়ার নেই কোন আক্ষেপ। অভাব তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি আন্দোলন সংগ্রাম থেকে।

এবারও ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের ব্যানারে প্রভাতফেরীতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। আন্দোলন সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জামালপুরের রাজপথে নিয়মিত মুখ কয়েছ উদ্দিন। সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এমপি’র নামে জীবদ্দশায় সড়কের নামকরন হলেও কয়েছ উদ্দিনের নামে নামকরন হয়নি কোন সড়কের। সড়ক নামকরনের তালিকায় নেই শহীদ মুক্তিযুদ্ধা এবং জামালপুরে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী মুক্তিযুদ্ধা ফয়েজুর রহমানের নাম। মরহুম ফয়েজুর রহমান যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন। তাঁর নের্তৃতে ফয়েজুর কোম্পানী বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নামও নামকরন তালিকায় আসেনি। গৌরবউজ্জল ভুমিকা পালনকারী ভাষা সৈনিক ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধা অনেকেরই নাম নেই সড়ক নামকরনের তালিকায় প্রথম পর্যায়ে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে তালিকা তৈরী হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে ভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষনা কেন্দ্রের আহবায়ক আলী ইমাম দুলাল বলেন, তা নয়, গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখা ভাষা সৈনিক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সকলের নামেই সড়ক নামকরনের প্রস্তাব পৌরসভায় জমা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

হ্যা বেশ’কজন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়েছে স্বিকার করে আরও বলেন, নামকরনই নয়, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধ নিয়ে আগামীতে আরো পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেছেন, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং জামালপুরের কৃর্তিমান ব্যাক্তিদের নামে বিভিন্ন সড়ক, চত্তর এবং স্থাপনার নামকরন করা হবে। এ ব্যাপারে সকলের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।