তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এ্যাম্বুলেন্স ২৬ বছর, আরেকটি ২ মাস ধরে পরিত্যক্ত

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারী এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের অভাবে প্রায় ২৬ বছর আরেকটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স গত ৪ মাস পূর্বে হস্তান্তরের ২ মাস ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

ambulans

আজ বুধবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৩ লক্ষ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আর এই হাসপাতালটিতে রোগী পরিবহনের জন্য ১৯৮৬ইং সালে সরকারী ভাবে একটি এ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। যার নম্বর সিরাজগঞ্জ-ব-৩। কিন্তু দুই বছর পরই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। অর্থের অভাব এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত না করায় সেটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এ্যাম্বুলেন্সটির যন্ত্রাংশ খুলে খুলে বিক্রী দিয়েছে সে সময়ের গাড়ী চালক।

তাছাড়া গত বছরের ২৫ অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএসডি’র দেয়া একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স স্থানীয় সাংসদ গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এর কয়েক দিন পর ৩০ অক্টোবর মাসে তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হককে গুরুত্বর অসুস্থবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া পথে খালখুলা নামকস্থানে পেছনে থাকা একটি পুলিশ ভ্যান নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়।

এ সময় এ্যাম্বুলেন্সটির সামনের অংশটি সামান্য মুচরে যায়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা অবহেলা আর অযত্নে সেটি মেরামত না করে হাসপাতালের পেছনে জঙ্গলের মাঝে ফেলে রেখেছে সেই আগের এ্যাম্বুলেন্সটির মত। এতে নতুন এ্যাম্বুলেন্সটির প্রায় ভগ্নদশা। আর এ্যাম্বুলেন্সগুলো নষ্ট হয়ে বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ জন্য বর্তমানে একটি ভাঙ্গাচোরা জোরাতালি দেয়া এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তা আবার বেশির ভাগ সময়ই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। ফলে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পরিবহনে চরম বিপর্যয় ঘটছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগিরা অন্যত্র যাতায়াত করতে দূর্ভোগের শিকারও হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. সবিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আগের এ্যাম্বুলেন্সটি শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুনটি মেরামতের জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেয়া হয়েছে।