কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের ফেরি চলাচল বন্ধ

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কলাপাড়া-কুয়াকাটার বালিয়াতলীর ফেরি পারাপার চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প সড়কের কুয়াকাটার চলাচল বন্ধ রয়েছে।

fari

উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত এ ফেরিটি চালুর কোন উদ্যোগও না থাকায় চরে আটকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ফেরিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় যন্ত্রপাতি পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ফেরি ঘাটের পন্টুন, গ্যাংওয়ে খেয়াঘাটের ইজারাদার তাদের ব্যবসায়ীক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

জানা গেছে, এলজিইডির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২৫ এর আওতায় দেশীয় কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি মেকানাইজড ফেরিটি বালিয়াতলী পয়েন্টে আন্ধারমানিক নদীর শেষপ্রান্তে স্থাপন করা হয়। ফেরিটি ২০০৮ইং সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর ব্যবস্থাপনাও তাদের হাতে ন্যাস্ত করা হয়।

উপজেলা পরিষদ বাংলা ১৪১৬ সালের জন্য ২৬ হাজার টাকায় ইজারা প্রদান করে। ফেরিটি চালু হওয়ার পরে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দে বিকল্প এ সড়কে গাড়ি নিয়ে পর্যটন সমৃদ্ধ কুয়াকাটা ছাড়াও গঙ্গামতি কাউয়ারচরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট দেখার সুযোগ পায়। এছাড়া এ পথে চলাচলকারী বালিয়াতলী, ধুলাসার, লালুয়া, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়।

কিন্তু কিছুদিন যেতেই ফেরিটির ইঞ্জিন গ্যাংওয়ে, পন্টুন বিকল হতে থাকে। ইঞ্জিনের একটি পাখা ভেঙ্গে তিন বছর পারাপার বন্ধ থাকে। এরপর কয়েকদিনের জন্য চালু হলেও ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর পুর্নাঙ্গভাবে চালু হয়নি। প্রায় পাঁচটি বছর ফেরিটি চরে কাদার উপরে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বহু যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে চারটি ইউনিয়নের এক লাখ সাধারণ মানুষসহ পর্যটকরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। মেরামত করে ফেরিটি পুনরায় চালুর কোন উদ্যোগ নেই।

অনেক আগেই ফেরির টন পাইপ ও পাখার সঙ্গে রড বেঁধে দেয়ায় পাখা ভেঙ্গে গেছে। বহু মালামাল চুরি হয়ে গেছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের দাবি, এ ফেরিটি সচল থাকায় প্রতিদিন বহু গাড়ি পারাপার হতো।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার জানান, এটি চালাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। তাই আপাতত ফেরিটি চালুর পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি এলজিইডির উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।