প্রকাণ্ড চোয়াল বিস্ফারিত করে ধেয়ে আসত দানবাকৃতি কৃমি!

news_picture_43063_worm1


চিত্র বিচিত্র ডেস্কঃ

বিজ্ঞানীরা তাকে কোন বর্গে ফেলবেন? কার্যত তাকে ‘কৃমি’ ছাড়া অন্য কিছুই বলা যায় না। কিন্তু তার আকার এতটাই বড় ছিল যে, তাকে ‘কৃমি’-র জাতভাই বলতে গেলে দ্বিধা হবেই সাধারণ মানুষের।

সম্প্রতি কানাডার এক মিউজিয়ামে খোঁজ পাওয়া গেল এক দানবাকৃতি প্রাগৈতিহাসিক কৃমির জীবাশ্মের। তার আকৃতি বিশাল তো বটেই, তার থেকেও আশ্চর্য তার চোয়ালের আয়তন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৃমিটিই ছিল আধুনিক কেঁচো ও জোঁকের পূর্বসূরী। আজ থেকে ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে প্যালিও জোয়িক সমুদ্রে এরা বাস করত বলে জানিয়েছেন তারা।

আজকের কেঁচো বা জোঁকের চোয়াল থেখানে মিলিমিটারে মাপা হয়, সেখানে এই প্রাণীটির চোয়াল ছিল এক মিটারের চাইতেও বেশি চওড়া। ১৯৯৪ সালে অন্টারিও থেকে এই মিউজিয়ামে আসে বেশ কিছু ফসিল। এতদিন সেভাবে নজর করা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় ধরা পড়ল এই দানব কৃমির অস্তিত্ব। এরা চোয়াল বিস্ফারিত করে বেশ বড় আকারের মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের গিলে খেত বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষক দলের প্রতিনিধি সুইডেনের লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটস এরিকসন জানিয়েছেন, এই চোয়ালের ব্যাপারটা বাস্তুতান্ত্রিক দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়ে জলজগতে এই কৃমিরা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত, তার প্রমাণ এই চোয়াল। এই বিশেষ কৃমিটির নাম রাখা হয়েছে ‘ওয়েবস্টেরোপ্রিয়ন আর্মস্ট্রঞ্জি’। প্রখ্যাত ডেথ মেটাল সঙ্গীত দল ‘ক্যনিবল কর্পস’-এর বেস গিটার বাদক অ্যালেক্স ওয়েবস্টারের সম্মানার্থেই এই নামকরণ বলে জানিয়েছেন এরিকসন।