গ্রীন টি নিয়ে যত কথা! (কেন খাবেন? উপকারিতা কি?) (প্রথম পর্ব)

গ্রিন টি

সাজেদুর রহামান, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

গ্রীন টি আর আমরা রেগুলার যে চা খাই দুটাই একই গাছ থেকে তৈরি হয়। গ্রীন টি সবচেয়ে কম প্রসেস করা হয় তাই এতে উপকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমান অনেক বেশি আর ব্ল্যাক টি র চেয়ে ক্যাফেইন অনেক কম। ওলং টা গ্রীন আর ব্ল্যাক টি এর মাঝামাঝি। সেটা নিয়ে আলাদা পোস্ট করবো। আজকে কথা বলবো বিভিন্ন রকমের গ্রীন টি নিয়ে।

1.Long Jing যেটা Dragonwell Green Tea নামেও পরিচিত। এটি চয়নার চা এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রীন টির মধ্যে একট।
2. Japanese Sencha- এটি জাপানের রেগুলার গ্রীন টি এবং জাপানে খুব বেশি খাওয়া হয় এবং বহির্বিশ্বেও ভাল চাহিদা।
3.Matcha– এটি পাউডার জাপানিজ গ্রীন টি। এটি জাপানের চা উৎসবে খুব ইউজ হয়। ম্যাচা গুড়া বিভিন্ন খাবার, ডেজার্ট এ ব্যাবহার করা হয়। আইসক্রীম ও বানানো হয়। আমি দু তিনবার ম্যাচার ছবি পোস্ট দিসি গ্রুপে। সবাই জিজ্ঞেস করছে এত সবুজ কেন।
4. Genmai Cha যা পপকর্ন চা নামেও পরিচিত। এটা আসলে Sencha যা প্যানে ভাজা হয় সাথে ব্রাউন রাইস মিক্স থাকে মানে চালভাজা।

আপনি নিচের লিংকে গিয়ে চায়না, জাপানের সব গ্রিনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

http://teadiscussion.com/types/green-tea-types.php

এত রকমের গ্রীন টি দেখে মাথা ঘুরাচ্ছে তো। কোনটা বেস্ট? আসলে সবগুলোই ভাল। এটা জেনে রাখা ভাল যে উচ্চমানের গ্রীন টির মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হয় না। যদি কোন গ্রীন টি খুব বাজে টেস্ট হয় তাহলে বুঝতে হবে খুব ফ্রেশ না। পাউডার গ্রীন টিন বা লুজ গ্রীন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমান বেশি থাকে টি ব্যাগের তুলনায়। লুজ চা তে গোটা পাতা থাকে, এবং বড় বড় পাতার টুকরা থাকে এবং ফ্রেশ আর স্টোরেজ লাইফ কম। অন্যদিকে টি ব্যাগে ছোট ছোট চা পাতার টুকরা থাকে, যা খুব জলদি লিকার ছাড়ে তবে স্বাদ এবং স্বাস্থ্যকর উপাদান কম থাকে। টি ব্যাগ অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায় তাই এটাকে খুব ফ্রেশ বলা চলেনা এবং স্বাস্থ্যকর উপাদান কম। তবে কিছু বেনিফিট তো অাছেই। লুজ টা সম্ভব না হলে এটাতেই কাজ চালাতে হবে।

তাহলে কোন চাইনিজ বা জাপানিজ গ্রীন টি কিনবেন? এটা আপনার নিজের স্বাদের উপর নির্ভর করে। তাই সবগুলা একটু করে টেস্ট করবেন যেটা ভাল লাগবে সেটা কনটিনিও।

এখন কেন আপনি রোজ গ্রীন টি খাবেন? আর উপকারিতা কি?

গ্রীন টি তে আছে Epigallocatechin Gallate সংক্ষেপে EGCG. এটি গ্রীন টির একটি এন্টি-অক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন প্রকারের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, বিশেষ করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। এটি একটি ন্যাচরাল মেডিসিন।

১.গ্রীন সুপার ফ্যাট ফাইটার এবং ওজন কমাতে সহয়তা করে। এর EGCG বডির ফ্যাট বার্নিং এর হার বাড়িয়ে দেয়। বডির মেটাবলিক রেট বাড়ানোর জন্য এক্সপার্টরা দিনে মিনিমাম তিন কাপ রেকমেন্ড করে। যেনে রাখা ভাল, গ্রীন টি মেটাবলিজম রেট মাত্র ৪% বাড়ায় যা দিনে ৮০ ক্যালরি বার্ন করে। তাই শুধু মাত্র গ্রিন টি খেলেই ওজন কমবে না, ওজন কমানো, রেগুলার এক্সারসাইজ আর হেলদি ডায়েটের উপর নির্ভরশীল। আর গ্রিন টি হেলদি ওয়েট মেইন্টেনে সহায়তা করে,সাথে অল্প হলেও তো কিছু ক্যালরি বার্ন করছে।

২.দ্বিতীয় উপকারিতা শুনে খুশি হবেন। তা হল গ্রীন টি ভুড়ি কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি তে থাকা EGCG পেটে ফ্যাট বার্নিং জিন একটিভেট করে যা ওয়েট লুজের হার ৭৭% বাড়ায়। তাই ভুড়ি কমাতে রেগুলার গ্রীন টি খাইতে হবে।

৩. গ্রীন টি পেটের সমস্যা দুর করে এবং হজমে সাহায্য করে। তাই কখন হঠাৎ বেশি খেয়ে অসস্থি লাগলে গ্রিন টি খেতে পারেন।

৪.আরেকটি কারন হল গ্রীন টি তে থাকা থিয়ানাইন এবং এমিনো এসিড আপনাকে রিল্যক্স এবং ফোকাস থাকতে সহায়তা করে এবং গ্রীন টি স্ট্রেস কমায়। তাই যখন দুঃচিন্তাগ্রস্ত থাকবেন তখন এককাপ গ্রীন টি খাবেন, এটি আপনাকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করবে।

গ্রিন টি’র আরো উপকারিতা সম্পর্কে জানাবো পরের পর্বে।