দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যথার ঔষধ ব্যবহারের অপকারিতা(রিবাউন্ড হেডেক)

মাথাব্যাথা

রাবেয়া মাশফেরাত মেরী, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

আমাদের বাঙ্গালীদের স্বভাব একটা একটু খারাপ লাগলেই ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ কিনে খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল আর একটু বেশি জ্বর হলে নিজ দায়িত্বে এন্টিবায়োটিক শুরু করে দেয় কিন্তু তা ও দেখা যায় কোর্স ঠিকমত করে না।

আবার একটু মাথা ব্যথা হয়েছে তো সেইক্ষেত্রে ফার্মেসীওয়ালার পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া শুরু করে।এরা অনেকটা নিজেদের মর্জিমত চলে।কিন্তু হুটহাট না জেনে অথবা অনেক দিন একই ওষুধ খেলে পরবর্তীতে কি ধরনের ঝুকি হতে পারে তা অনেকেই জানেন না আর তাই আজ আমরা কিছুটা জানার চেষ্টা করব।

অনেক  দিন ধরে কেউ মাথা ব্যথার ওষূধ নিয়মিত খেলে তার রিবাউন্ড হেডেক দেখা যায়,বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেন আছে তারা যদি রেগুলার মাইগ্রেনের ওষুধ খায় তাদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কারণ মাইগ্রেনের রোগিদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় আর এই ওষুধ চলতেই থাকে।

ব্যথার ওষুধ খাওয়া কমিয়ে দিলে সাধারণত এটি কমে যায়।

কিভাবে বুঝবেনঃ

১)প্রায় প্রতিদিনই আপনার মাথা ব্যথা হবে,বিশেষ করে কেউ যদি সকালে হাটে।

২)ব্যথার ওষূধ খাওয়া কমিয়ে দিলে ব্যথা কমে যায় কিন্তু ব্যথার ওষুধ আবার খেলে মাথা ব্যথা দেখা দেয় আগের মত।

৩)বমি বমি ভাব দেখা যায়।

৪)উদসীনভাব থাকে।

৫)মেজাজ খিটখিটে থাকে।

৬)এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে।

৭)কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়।

৮)কোন কিছু ঠিকমত মনে থাকেনা।

কেন হয়ঃ

১)এসপিরিন,এসিটামিনোফেন জাতীয় ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলে হয়।

২)মাইগ্রেনের ওষুধ নিয়মিত খেলে হয়।

৩)ওপিয়েট জাতীয় ওষুধ খেলে হয়।

৪)ক্যাফেইন নিয়মিত খেলে হয়।

কাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশিঃ

১)যাদের অনেক দিন ধরে মাথা ব্যথা আছে।

২)নিয়মিত যারা মাথা ব্যথার ওষুধ খায়।

চিকিৎসাঃ 

ব্যথার ওষুধ খাওয়া কমিয়ে দিলে সাধারণত এই ব্যথা ভাল হয়ে যায়।

প্রতিরোধঃ

**পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে

**যেসব ওষুধ খেলে ব্যথা হয় সেগুলো না খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে

**নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

**নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে

**মানসিক চাপ কম নেয়ার চেষ্টা করতে হবে

**ওজন বেশি হলে কমাতে হবে

**ধূমপান ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে

**কিছু ঔষুধ দিয়ে ভাল করা যায়-

১)ট্রাইসাইক্লিন এন্টিডিপ্রেসেন্ট অথবা নরট্রিপটিলিন

২)এন্টিকনভালসেন্ট

৩)বিটা ব্লকার (প্রোপানলল)

৪)ক্যালসিয়েম চ্যানেল ব্লকার

উপরোক্ত গ্রুপের ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করলে সুস্থ থাকলে যাবে।

তাছাড়া অনেক সময় ডাক্তার রোগীর অবস্থা বুঝে CBT(Cognitive behavioral therapy) দেয়া হয়।