‘মধ্যরাতে খালেদা সহ তার দলের নেতা-কর্মীরাও ‘বেতাল’ হয়ে পড়ে!’ আশংকা প্রকাশ করে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার-সময়ের কণ্ঠস্বর 

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সময় খালেদা জিয়ার শহীদ মিনারের মূল বেদীতে উঠার অভিযোগ নিয়ে যে ‘আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো এবার তা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বুধবার আওয়ামী লীগের এক আলোচনায় ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, মধ‌্যরাতে যাওয়ায় হয়ত ‘বেতাল’ হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন!’ এসময়  বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আচ্ছা, উনি না হয় তো বেতাল হয়ে গেছেন। কারণ, মধ্যরাতে গেছে। উনার দলের লোকেরা দেখবে না? দলের নেতাকর্মীরা যারা ছিল তারা কি তাকে ঠিকমত জায়গায় নিয়ে যাবে না? নাকি ওনার দলের লোকরাও মধ্যরাতে বেতাল হয়ে যায়?’

আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেন, “ভাষার প্রতি তার (খালেদা) সম্মানই নেই। শহীদ মিনার, একটি পবিত্র জায়গা। ওই শহীদ মিনারে আমরা যেখানে ফুল দিয়েছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ফুল দিয়েছেন। আমি ফুল দিয়েছি। মাননীয় স্পিকার ফুল দিয়েছেন। অসংখ্য নেতারা ফুল দিয়েছেন। বিএনপি নেত্রী তার স্ব-দলবল নিয়ে ঠিক ওই জায়গাটায় উঠে দাঁড়িয়েছেন।
“যেখানে সবাই ফুল দেবে, সেই বেদীতে যদি উঠে যায় তাহলে, তিনি ফুলটা দিলেন কোথায়? নিজের পায়ে দিয়ে এলেন কি না, সেটাই প্রশ্ন?”

বিএনপি প্রধানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আচ্ছা, উনি না হয় তো বেতাল হয়ে গেছেন। কারণ, মধ্যরাতে গেছে। উনার দলের লোকেরা দেখবে না? দলের নেতাকর্মীরা যারা ছিল তারা কি তাকে ঠিকমত জায়গায় নিয়ে যাবে না? নাকি ওনার দলের লোকরাও মধ্যরাতে বেতাল হয়ে যায়? প্রধানমন্ত্রী বলেন “এভাবে গিয়ে অপকর্ম করে আসল। শহীদ দিবসের মর্যাদা নষ্ট করে দিয়ে আসল।”

 

নিজের বক্তব্যে পাকিস্তান শাসনামলে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কবিতাও বিকৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাশ্মশানের জায়গায় লেখা হয় গোরস্থান। ‘সকালে উঠে আমি মনে মনে বলি’ এর স্থলে লেখা হয় ‘ফজরে উঠে আমি দেলে দেলে বলি’।

এসময়, শান্তিপূর্ণভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে অন‌্যদের মধ‌্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অধ‌্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মেরিনা জাহান বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২১ শে ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে  ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে সর্বোচ্চ ধাপে উঠার অভিযোগে ব্যপক  বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের ‘পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ।

অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ জানান, খালেদা জিয়া শহীদ মিনারের মূল বেদীতে সর্বোচ্চ ধাপে উঠার মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের ‘পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে’।

তবে শহীদ মিনারের এবারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । আর মূল বেদীতে ওঠা নিয়ে ‘শাসকদল’ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

khaleda 21 febতিনি বলেন, যেখানে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করার স্থান, সেখানেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আমাদের নেত্রী যখন সেখানে যান, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদস্যরা ছিলেন, আমরা যেখানে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, সেখানে গণমাধ্যমসহ সকলেই ছিলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা স্কাউটরাও ছিলেন।

রিজভী বলেন, “এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ছুতা পাচ্ছে না, তাই এখন তারা বিএনপির বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। ”